ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে নরসিংদী। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী মাঠ প্রস্তুত করতে ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। ব্যালট পেপার, গণভোটের পেপার, ব্যালট বক্স, অমোচনীয় কালি, স্ট্যাম্প, প্যাড, গালা, চার্জার লাইট ও ক্যালকুলেটরসহ যাবতীয় নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের সাথে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী সদর ও রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের ১১টি ইউনিয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব এলাকার কেন্দ্রগুলোতে সরঞ্জাম পৌঁছাতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধারণ যানবাহনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিশেষ সহায়তা প্রদান করছেন। জেলার পাঁচটি আসনে এবার মোট ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯ লাখ ৭১ হাজারের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল এক নিরাপত্তা বাহিনী। জেলাজুড়ে ৬৬৩টি কেন্দ্রে মোট ১০ হাজার ৭২৫ জন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ৪৪০ জন সেনাসদস্য, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, প্রায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ সদস্য এবং ৮ হাজার ৬১৯ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য রয়েছেন। এছাড়া র্যাবের ৭০ জন সদস্য ৫টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছেন। মোট কেন্দ্রের মধ্যে ১৬৩টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন আকন্দ জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। চরাঞ্চলসহ প্রতিটি কেন্দ্রে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার জানান, নির্বাচনের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে আমরা বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে আসতে পারেন, সেজন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটগণও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।”
রিপোর্টারের নাম 






















