ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকারের গাড়িতে হামলা ও তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ করেন তিনি। পরে কসবাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন এই জামায়াত নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে মো. আতাউর রহমান সরকার জানান, মঙ্গলবার রাতে তিনি তোলাতালা কেন্দ্রের এজেন্ট শফিকুল ইসলামের অসুস্থ মাকে দেখতে যান। সেখানে স্থানীয় দশজন কেন্দ্র প্রতিনিধির সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। কুশলাদি বিনিময় শেষে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় বাইরে হট্টগোলের শব্দ শুনে গাড়ির কাছে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা উভয় দিক থেকে তার গাড়ি, প্রতিনিধিদল এবং তাকে ঘিরে ফেলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি গাড়িতে উঠতে চাইলে তারা বাধা দেয়। এমনকি আমার গাড়িচালককে মারধর করা হয়। আমাকে ও আমার সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদের নোংরা ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করা হয়।”
প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তিনি ঘটনাস্থলে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন বলেও জানান জামায়াত প্রার্থী। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি জেলা রিটানিং কর্মকর্তা (জেলা প্রশাসক) এবং জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মোশাররফ, ধরখার ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বশির মিয়া, বিএনপি কর্মী বেলায়েত, রুবেল মিয়া মোফাজ্জলসহ স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ করেন আতাউর রহমান সরকার। এ সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির কাজী ইয়াকুব আলী, নির্বাচন পরিচালক কাজী সিরাজুল ইসলামসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ওই গ্রামে যাওয়ার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেবেছিলেন তিনি প্রচার চালাচ্ছেন। এ কারণেই তারা গাড়ি আটকে রেখেছিল। তবে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর শুনে তারা সেখান থেকে সরে যায়। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।
রিপোর্টারের নাম 























