আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুরের তিনটি সংসদীয় আসনে বইছে ভোটের হাওয়া। এই নির্বাচনী লড়াইয়ে মোট ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার মোট ৩৮১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ ২২৪টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। বাকি ১৫৭টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসেবে ধরা হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্যানুযায়ী, মাদারীপুরের তিনটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৩২৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩০৮ জন এবং নারী ভোটার ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭ জন। এ ছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১২ জন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রে ৩ জন সশস্ত্র পুলিশ, ৩ জন সশস্ত্র আনসার এবং ১০ জন লাঠিধারী আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। অন্যদিকে, সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ২ জন সশস্ত্র পুলিশ, ২ জন সশস্ত্র আনসার এবং ১১ জন লাঠিধারী আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয় রয়েছে। জেলায় প্রায় ৬০০ সেনাসদস্য টহল ও নির্বাচনী সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছেন। প্রতিটি উপজেলায় ১০০ জন করে সেনাসদস্য মোতায়েন থাকলেও সদর উপজেলায় থাকছেন ২০০ জন। পাশাপাশি ৬ প্লাটুন বিজিবি এবং র্যাবের অর্ধশত সদস্য নির্বাচনী মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন।
আইনগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে থাকছেন ২৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এর মধ্যে মাদারীপুর-১ ও ২ আসনে ৭ জন করে এবং মাদারীপুর-৩ আসনে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের সহায়তায় থাকবেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরাও।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সব ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যেকোনো অনিয়ম রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























