আজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ দিন। তবে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৬টি আসনে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলেও, নির্বাচনকে ঘিরে এখনো উদ্বেগ কাটেনি। তফসিল ঘোষণার পূর্বের পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন; রাজনৈতিক সংঘাত ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল গভীর শঙ্কা।
তবে, প্রার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং নেতাকর্মীদের সহনশীল আচরণের কারণে নির্বাচনী প্রচার শেষ হতে চলেছে অনেকটাই নির্বিঘ্নে। কিন্তু, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখনো কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে। দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয়ভাবে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা এখনো পুরোপুরি দমন করা যায়নি। এছাড়াও, পলাতক আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের নির্বাচন বানচালের হুমকি প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা অবশ্য নির্বাচন বানচালের যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
গত জুলাই মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী চট্টগ্রামে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এদের অনেক প্রধান বিদেশে অবস্থান করলেও, তারা বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে বিরোধ ও গ্রুপিংয়ের সুযোগ নিয়ে এই সন্ত্রাসীরা নিজ নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। বিশেষ করে, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, সীতাকুণ্ড, বায়েজিদ, চাঁন্দগাও, বাকলিয়া এলাকার কিছু রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
বিশেষ করে, গত ৫ নভেম্বর বিএনপি প্রার্থী ঘোষণার পরদিন নগর বিএনপির সভাপতি এরশাদউল্লাহ চৌধুরী প্রচারণার সময় হামলার শিকার হন। এই হামলায় সারোয়ার বাবলা নামে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হন, যিনি এরশাদউল্লাহর জনসংযোগে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় এরশাদউল্লাহ নিজেও গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনাগুলো নির্বাচন ঘিরে বিদ্যমান উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
রিপোর্টারের নাম 























