ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে এক সময়ের রাজনৈতিক উত্তপ্ত জনপদ গোপালগঞ্জে এখন বিরাজ করছে এক ধরনের থমথমে শান্তি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই। তবে ভোটের মাঠ শান্ত থাকলেও সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে আসা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা কাজ করছে জেলাজুড়ে।
স্থানীয় সূত্র ও নির্বাচনী বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীদের মধ্যে কোনো সংঘাত না হলেও গত বছরের সহিংসতার স্মৃতি এখনো সাধারণ মানুষের মনে ভীতি জাগিয়ে রেখেছে। এছাড়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোট বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছে। ফলে ভোটাররা কতটা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসবেন, তা নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা চলছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলে তিন আসনেই লড়াই হবে বহুমাত্রিক। বিশেষ করে বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয়রা। গোপালগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের সাবেক এক নেতার উপস্থিতি নির্বাচনকে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে এবার মোট ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে গোপালগঞ্জ-১ আসনে ৯ জন, গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১৩ জন এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। জেলার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্রে মোট ১০ লাখ ৯২ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। মোট ভোটারের মধ্যে ৫ লাখ ৫৫ হাজার পুরুষ এবং ৫ লাখ ৩৭ হাজার নারী ভোটার ছাড়াও ৫ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন।
নিরাপত্তার বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ কোনো ছাড় দিতে নারাজ। জেলার ৩৯৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৮৫টিকেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে নির্বাচনী কর্মকর্তারা একে দেখছেন বিশেষ সতর্কতার অংশ হিসেবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় ১ হাজার ৪০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাব মোতায়েন থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে, যাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শেষে আজ বুধবার বিকেলের মধ্যেই ব্যালট বাক্স ও প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটাররা কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের দিন পরিবেশ কেমন থাকে এবং ভোটারদের উপস্থিতি কত শতাংশ হয়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে আছে পুরো জেলাবাসী।
রিপোর্টারের নাম 























