ঢাকা ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ভোটের টানে গ্রামে জনস্রোত: মহাসড়ক-নৌপথে তীব্র যানজট, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে টানা চারদিনের ছুটি পেয়ে কর্মজীবীরা ছুটছেন গ্রামের বাড়ির পানে। ভোট উৎসবে অংশ নিতে লাখো মানুষের এই ঢলে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও পাটুরিয়া-আরিচা ফেরিঘাটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদযাত্রার আমেজ নিয়ে শুরু হওয়া এই ঘরমুখো যাত্রায় দুর্ভোগের সঙ্গী হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও।

গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের হাঁটুভাঙা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ৩২ কিলোমিটার জুড়ে দেখা গেছে তীব্র যানজট। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে টানা তিনদিনের ছুটি ঘোষণা হওয়ায় শ্রমিকসহ বিভিন্ন অফিসের কর্মজীবীরা একযোগে গ্রামের পথে রওনা দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। রাজীব পরিবহনের সুপারভাইজর জিকু জানান, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রা আসতে তাদের পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে, যা মাত্র ২৪ কিলোমিটারের পথ। অন্যদিকে, ঢাকাগামী নাফিস পরিবহনের চালক তারা মিয়া বলেন, হাঁটুভাঙা থেকে চন্দ্রা পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা লেগেছে, অথচ ঢাকা যেতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

এই সুযোগে কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জের যাত্রী ইমন জানান, স্বাভাবিক সময়ে ৬০০ টাকার ভাড়া এখন ১০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের আম্বিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোট দিমু কিন্তু গাড়ি ভাড়া দিব কেরা? সরকার ভোট দিতে কইছে আবার গাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দিছে। যত বিপদ শুধু গরিবের।’ মহাসড়কে যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সাওগাত হোসেন বলেন, নির্বাচন ও কারখানার ছুটি একসঙ্গে হওয়ায় সড়কে চাপ বেড়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরিঘাটেও ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল সকাল থেকে ফেরিঘাটগুলোতে ঈদযাত্রার মতোই জনস্রোত দেখা যায়। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা ঢাকা ছেড়ে একযোগে ঘাটে আসায় লঞ্চ ও ফেরিতে জায়গা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

যশোরগামী ভোটার আব্দুর রহমান, পাবনাগামী আবু সাঈদ ও কুদ্দুস মিয়া, এবং সাইদুর রহমানসহ অনেকেই জানান, ভোট দেওয়ার আনন্দ নিয়ে গ্রামে যাচ্ছেন, তবে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়ার কারণে কষ্ট হচ্ছে। সুবহান নামের এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার জন্য গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। বিগত ১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। কিন্তু এ অবস্থায় পরিবহনের মালিকরা সিন্ডিকেট করে ভাড়া বেশি নিচ্ছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও দেখতে পাইনি।’ তিনি নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে গ্রামে গেলেও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলেও জানান।

গাড়ির চালক আবুল হোসেন জানান, সকালে এসেও ভিড়ের কারণে এখনো ফেরিতে জায়গা পাননি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফেরায় হঠাৎ করে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দিনের মধ্যেই যানজট স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। লঞ্চ মালিক ওয়াসিম মোল্লা এবং স্পিডবোর্ড মালিক শহিদুল ইসলামও জানান, যাত্রীর চাপ বাড়ায় সিরিয়াল দিতে কিছুটা সমস্যা হলেও শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসেবা স্থবির বরিশালে: নির্বাচিত প্রতিনিধি শূন্যতায় চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

ভোটের টানে গ্রামে জনস্রোত: মহাসড়ক-নৌপথে তীব্র যানজট, বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:২১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে টানা চারদিনের ছুটি পেয়ে কর্মজীবীরা ছুটছেন গ্রামের বাড়ির পানে। ভোট উৎসবে অংশ নিতে লাখো মানুষের এই ঢলে গতকাল মঙ্গলবার থেকেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও পাটুরিয়া-আরিচা ফেরিঘাটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদযাত্রার আমেজ নিয়ে শুরু হওয়া এই ঘরমুখো যাত্রায় দুর্ভোগের সঙ্গী হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও।

গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইলের হাঁটুভাঙা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ৩২ কিলোমিটার জুড়ে দেখা গেছে তীব্র যানজট। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বাস, ট্রাক, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোতে টানা তিনদিনের ছুটি ঘোষণা হওয়ায় শ্রমিকসহ বিভিন্ন অফিসের কর্মজীবীরা একযোগে গ্রামের পথে রওনা দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা। রাজীব পরিবহনের সুপারভাইজর জিকু জানান, গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রা আসতে তাদের পাঁচ ঘণ্টা সময় লেগেছে, যা মাত্র ২৪ কিলোমিটারের পথ। অন্যদিকে, ঢাকাগামী নাফিস পরিবহনের চালক তারা মিয়া বলেন, হাঁটুভাঙা থেকে চন্দ্রা পৌঁছাতে দুই ঘণ্টা লেগেছে, অথচ ঢাকা যেতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

এই সুযোগে কিছু পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জের যাত্রী ইমন জানান, স্বাভাবিক সময়ে ৬০০ টাকার ভাড়া এখন ১০০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের আম্বিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোট দিমু কিন্তু গাড়ি ভাড়া দিব কেরা? সরকার ভোট দিতে কইছে আবার গাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে দিছে। যত বিপদ শুধু গরিবের।’ মহাসড়কে যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি সাওগাত হোসেন বলেন, নির্বাচন ও কারখানার ছুটি একসঙ্গে হওয়ায় সড়কে চাপ বেড়েছে। যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, পাটুরিয়া ও আরিচা ফেরিঘাটেও ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। গতকাল সকাল থেকে ফেরিঘাটগুলোতে ঈদযাত্রার মতোই জনস্রোত দেখা যায়। উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা ঢাকা ছেড়ে একযোগে ঘাটে আসায় লঞ্চ ও ফেরিতে জায়গা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

যশোরগামী ভোটার আব্দুর রহমান, পাবনাগামী আবু সাঈদ ও কুদ্দুস মিয়া, এবং সাইদুর রহমানসহ অনেকেই জানান, ভোট দেওয়ার আনন্দ নিয়ে গ্রামে যাচ্ছেন, তবে অতিরিক্ত পরিবহন ভাড়ার কারণে কষ্ট হচ্ছে। সুবহান নামের এক যাত্রী আক্ষেপ করে বলেন, ‘১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার জন্য গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি। বিগত ১৭ বছর ভোট দিতে পারিনি। কিন্তু এ অবস্থায় পরিবহনের মালিকরা সিন্ডিকেট করে ভাড়া বেশি নিচ্ছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও দেখতে পাইনি।’ তিনি নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে গ্রামে গেলেও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলেও জানান।

গাড়ির চালক আবুল হোসেন জানান, সকালে এসেও ভিড়ের কারণে এখনো ফেরিতে জায়গা পাননি। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)-এর ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি ফেরায় হঠাৎ করে ঘাটে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তবে দিনের মধ্যেই যানজট স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। লঞ্চ মালিক ওয়াসিম মোল্লা এবং স্পিডবোর্ড মালিক শহিদুল ইসলামও জানান, যাত্রীর চাপ বাড়ায় সিরিয়াল দিতে কিছুটা সমস্যা হলেও শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।