আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) সংসদীয় আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের জোরালো আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সড়ক ও আকাশপথে বরিশালের মূল প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই জনপদটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সবসময়ই মর্যাদার লড়াই হিসেবে বিবেচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং এবি পার্টির প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সমীকরণে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ও নিরপেক্ষ ভোটাররাই হয়ে উঠতে পারেন জয়ের চাবিকাঠি।
ঐতিহাসিকভাবে বরিশাল-৩ আসনে আওয়ামী লীগ কখনো এককভাবে জয়ী হতে পারেনি। আসনটি বিভিন্ন সময়ে মহাজোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে এখান থেকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু তিনবার এবং ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ টিপু সুলতান একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু কারাগারে থাকায় তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচার সামলাচ্ছেন তার কন্যা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হাবিবা কিবরিয়া। জাতীয় পার্টির এই প্রার্থীর পক্ষে মহাজোটের একটি অংশ এবং নারী ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে, যা নির্বাচনী মাঠে নতুন কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, বিএনপির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনে শক্ত অবস্থান ফিরে পেতে মরিয়া দলটির ভাইস চেয়ারম্যান ও হেভিওয়েট প্রার্থী জয়নুল আবেদিন। দীর্ঘদিনের ভোটব্যাংক এবং ব্যক্তিগত ইমেজ তার প্রধান শক্তি হলেও দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর ভিড় তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ধানের শীষের প্রতি তৃণমূলের আবেগ ও ঐক্য ধরে রাখতে পারলে আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন কর্মীরা।
এবারের নির্বাচনে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের শরিক দলগুলোর সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী তার পক্ষে মাঠে নেমেছে। বিশেষ করে জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ব্যারিস্টার ফুয়াদের ধারাবাহিক গণসংযোগ অন্য দুই প্রধান প্রার্থীর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সরাসরি মাঠে না থাকায় ভোটের মূল লড়াই এখন বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও এবি পার্টির প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। দলীয় আনুগত্যের বাইরে থাকা একটি বিশাল অংশের সাধারণ ও নিরপেক্ষ ভোটারদের ঝোঁক যেদিকে থাকবে, জয় সেদিকেই নিশ্চিত হবে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির ঐক্যবদ্ধ থাকার সক্ষমতা, জাতীয় পার্টির নীরব ভোটব্যাংক এবং এবি পার্টির জোটবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তি—এই তিন ফ্যাক্টরের ওপরই নির্ভর করছে বরিশাল-৩ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল।
রিপোর্টারের নাম 




















