ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

হবিগঞ্জে ভোটের ভাগ্য নির্ধারণে ‘ফ্যাক্টর’ নারী ভোটাররা: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের চারটি সংসদীয় আসনে জয়ের চাবিকাঠি এখন নারী ভোটারদের হাতে। জেলার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তারা এখনো নানাভাবে অবহেলিত। জেলার অর্থনীতিতে, বিশেষ করে চা-শিল্প ও কলকারখানায় নারীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ রয়ে গেছে। ফলে এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা নারী ভোটারদের মন জয়ে কতটুকু সফল হবেন, তা নিয়েই চলছে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জের চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৯ লাখ ২ হাজার ৮৫৩ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৯ লাখ ১৫ হাজার ৭৪০ জন এবং হিজড়া ভোটার ২৪ জন। বিপুল এই নারী ভোটারের সমর্থন যে প্রার্থীর দিকে ঝুঁঁকবে, শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা তার গলাতেই উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হবিগঞ্জের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চা-বাগান। আর এই শিল্পের প্রাণভোমরা নারী শ্রমিকরা। দেউন্দি চা-বাগানের শ্রমিক বাসন্তী বাকতিসহ অন্যান্য নারী শ্রমিকদের দাবি, যারা তাদের জীবনমান উন্নয়নে এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করবেন, তাদেরকেই তারা প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান। তাদের মতে, ভোট দিয়ে তারা সরকার গঠন করলেও বিনিময়ে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন খুব একটা ঘটে না। তাই নতুন সরকারের কাছে তাদের প্রধান চাওয়া—মজুরি বৃদ্ধি ও উন্নত জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা।

অন্যদিকে, জেলার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে কর্মরত নারী শ্রমিকদের প্রত্যাশা একটু ভিন্ন। তারা চান কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ এবং যাতায়াতের নিরাপত্তা। একই সুরে কথা বলছেন নারী উদ্যোক্তারাও। উদ্যোক্তা নাজমা আক্তারের মতে, ঘরে বসে যারা কাজ করতে চান বা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য বিশেষ সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন। নতুন সরকার যাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সহজলভ্যতা ও ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে, সেটিই তাদের মূল দাবি।

তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এর পাশাপাশি রয়েছে কিছুটা শঙ্কাও। অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পাশাপাশি তিনি গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। যাতায়াতের পথে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের জন্য এটি একটি বড় মানসিক সংকট। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নারীদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার প্রত্যাশা সাধারণ নারী ভোটারদের।

একজন স্কুলশিক্ষিকার মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর ভবিষ্যৎ কতটা মসৃণ হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে সচেতন নারী সমাজ কেবল আশ্বাস নয়, বরং একটি প্রকৃত নারীবান্ধব সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চায়। সব মিলিয়ে হবিগঞ্জের নির্বাচনী ময়দানে প্রার্থীদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ—নারীদের এই বিশাল প্রত্যাশার ঝুলি পূরণ করা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসেবা স্থবির বরিশালে: নির্বাচিত প্রতিনিধি শূন্যতায় চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

হবিগঞ্জে ভোটের ভাগ্য নির্ধারণে ‘ফ্যাক্টর’ নারী ভোটাররা: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জের চারটি সংসদীয় আসনে জয়ের চাবিকাঠি এখন নারী ভোটারদের হাতে। জেলার মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী হলেও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তারা এখনো নানাভাবে অবহেলিত। জেলার অর্থনীতিতে, বিশেষ করে চা-শিল্প ও কলকারখানায় নারীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ রয়ে গেছে। ফলে এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা নারী ভোটারদের মন জয়ে কতটুকু সফল হবেন, তা নিয়েই চলছে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জের চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ১৮ হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ৯ লাখ ২ হাজার ৮৫৩ জন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৯ লাখ ১৫ হাজার ৭৪০ জন এবং হিজড়া ভোটার ২৪ জন। বিপুল এই নারী ভোটারের সমর্থন যে প্রার্থীর দিকে ঝুঁঁকবে, শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা তার গলাতেই উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হবিগঞ্জের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চা-বাগান। আর এই শিল্পের প্রাণভোমরা নারী শ্রমিকরা। দেউন্দি চা-বাগানের শ্রমিক বাসন্তী বাকতিসহ অন্যান্য নারী শ্রমিকদের দাবি, যারা তাদের জীবনমান উন্নয়নে এবং মৌলিক অধিকার রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করবেন, তাদেরকেই তারা প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান। তাদের মতে, ভোট দিয়ে তারা সরকার গঠন করলেও বিনিময়ে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন খুব একটা ঘটে না। তাই নতুন সরকারের কাছে তাদের প্রধান চাওয়া—মজুরি বৃদ্ধি ও উন্নত জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা।

অন্যদিকে, জেলার শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুরে কর্মরত নারী শ্রমিকদের প্রত্যাশা একটু ভিন্ন। তারা চান কর্মক্ষেত্রে নারীবান্ধব পরিবেশ এবং যাতায়াতের নিরাপত্তা। একই সুরে কথা বলছেন নারী উদ্যোক্তারাও। উদ্যোক্তা নাজমা আক্তারের মতে, ঘরে বসে যারা কাজ করতে চান বা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য বিশেষ সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা প্রয়োজন। নতুন সরকার যাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণের সহজলভ্যতা ও ব্যবসার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে, সেটিই তাদের মূল দাবি।

তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তবে এর পাশাপাশি রয়েছে কিছুটা শঙ্কাও। অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পাশাপাশি তিনি গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। যাতায়াতের পথে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হওয়া নারীদের জন্য এটি একটি বড় মানসিক সংকট। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নারীদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার প্রত্যাশা সাধারণ নারী ভোটারদের।

একজন স্কুলশিক্ষিকার মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে নারীর ভবিষ্যৎ কতটা মসৃণ হবে সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে সচেতন নারী সমাজ কেবল আশ্বাস নয়, বরং একটি প্রকৃত নারীবান্ধব সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চায়। সব মিলিয়ে হবিগঞ্জের নির্বাচনী ময়দানে প্রার্থীদের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ—নারীদের এই বিশাল প্রত্যাশার ঝুলি পূরণ করা।