ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ভোটের উৎসবে শামিল হতে নিজ গন্তব্যে ছুটছে মানুষ, নাগরিক দায়িত্ব পালনের তাগিদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনী আবহের মধ্যেই এবার যেন ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিক দায়িত্ব পালনের তাগিদ আর পারিবারিক বন্ধনের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে চলেছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়, ভোট দেওয়ার জন্য। দেশের এই উৎসবমুখর পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এবং মহাসড়কগুলোতে দেখা যাচ্ছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কর্মজীবী মানুষজন বড় অঙ্কের যানবাহন খরচ বহন করেও বাড়ি ফিরছেন, শুধুমাত্র তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশ নিতে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল থেকেই কুমিল্লার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে যাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশেও যানবাহনের তীব্র চাপ লক্ষ্য করা গেছে। হাতে ব্যাগ, কোলে শিশু—সব মিলিয়ে মানুষের চোখেমুখে এক ধরনের তৃপ্তি, যেন ভোট দেওয়াই এবারের সবচেয়ে বড় উৎসব।

চাকরি, ব্যবসা বা পড়াশোনার সূত্রে যারা কুমিল্লায় বসবাস করছেন, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে নিজ নিজ দূরবর্তী জেলায় ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, কুমিল্লা ইপিজেডে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা এখানে চোখে পড়ার মতো। অনেকেই জানান, বছরের পর বছর কাজের ব্যস্ততায় ভোট দেওয়া হয়ে ওঠেনি, কিন্তু এবার সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না তারা।

কুড়িগ্রামগামী যাত্রী জুয়েল রানা, যিনি কুমিল্লা ইপিজেডে কর্মরত, বলেন, “সারা বছর কাজের চাপে বাড়ি যাওয়া হয় না। সাধারণত বছরে দুই ঈদে বাড়ি যাই। এবার ভোট উপলক্ষে স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করব, আবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটও দেব। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি চাই, সবাই যেন ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখে।”

নীলফামারীর বাসিন্দা ও কুমিল্লায় কর্মরত গার্মেন্টস কর্মী আয়েশা আক্তারও একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে টিকিট জোগাড় করেছি। ১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এই আনন্দেই নিজের কষ্টার্জিত টাকা খরচ করে বাড়ি যাচ্ছি। ভোটের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করব, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

রেল স্টেশনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ট্রেনের ভেতরের প্রতিটি আসন পূর্ণ, অনেক ক্ষেত্রে ছাদেও যাত্রী দেখা গেছে। যাত্রীদের ভিড়ে মুখর কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন। দীর্ঘ ভ্রমণ আর ভিড়ের মধ্যেও কারও মুখে বিরক্তির ছাপ নেই; বরং চোখেমুখে উৎসবের আনন্দ আর দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সর্বদা মাঠে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি, ইনশাআল্লাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।”

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরা মানুষজন প্রমাণ করছেন যে, ভোট কেবল একটি অধিকার নয়, এটি একটি উৎসব, একটি দায়িত্ব এবং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসেবা স্থবির বরিশালে: নির্বাচিত প্রতিনিধি শূন্যতায় চরম দুর্ভোগে নগরবাসী

ভোটের উৎসবে শামিল হতে নিজ গন্তব্যে ছুটছে মানুষ, নাগরিক দায়িত্ব পালনের তাগিদ

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনী আবহের মধ্যেই এবার যেন ঈদের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। নাগরিক দায়িত্ব পালনের তাগিদ আর পারিবারিক বন্ধনের এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে চলেছেন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায়, ভোট দেওয়ার জন্য। দেশের এই উৎসবমুখর পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন এবং মহাসড়কগুলোতে দেখা যাচ্ছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। কর্মজীবী মানুষজন বড় অঙ্কের যানবাহন খরচ বহন করেও বাড়ি ফিরছেন, শুধুমাত্র তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশ নিতে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল থেকেই কুমিল্লার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে যাত্রীদের আনাগোনা বেড়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ির পথে রওনা হচ্ছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশেও যানবাহনের তীব্র চাপ লক্ষ্য করা গেছে। হাতে ব্যাগ, কোলে শিশু—সব মিলিয়ে মানুষের চোখেমুখে এক ধরনের তৃপ্তি, যেন ভোট দেওয়াই এবারের সবচেয়ে বড় উৎসব।

চাকরি, ব্যবসা বা পড়াশোনার সূত্রে যারা কুমিল্লায় বসবাস করছেন, তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবার নির্বাচনে অংশ নিতে নিজ নিজ দূরবর্তী জেলায় ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে, কুমিল্লা ইপিজেডে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা এখানে চোখে পড়ার মতো। অনেকেই জানান, বছরের পর বছর কাজের ব্যস্ততায় ভোট দেওয়া হয়ে ওঠেনি, কিন্তু এবার সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না তারা।

কুড়িগ্রামগামী যাত্রী জুয়েল রানা, যিনি কুমিল্লা ইপিজেডে কর্মরত, বলেন, “সারা বছর কাজের চাপে বাড়ি যাওয়া হয় না। সাধারণত বছরে দুই ঈদে বাড়ি যাই। এবার ভোট উপলক্ষে স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করব, আবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটও দেব। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি চাই, সবাই যেন ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখে।”

নীলফামারীর বাসিন্দা ও কুমিল্লায় কর্মরত গার্মেন্টস কর্মী আয়েশা আক্তারও একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে টিকিট জোগাড় করেছি। ১৭ বছর পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি। এই আনন্দেই নিজের কষ্টার্জিত টাকা খরচ করে বাড়ি যাচ্ছি। ভোটের দিন লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করব, এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

রেল স্টেশনগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। ট্রেনের ভেতরের প্রতিটি আসন পূর্ণ, অনেক ক্ষেত্রে ছাদেও যাত্রী দেখা গেছে। যাত্রীদের ভিড়ে মুখর কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন। দীর্ঘ ভ্রমণ আর ভিড়ের মধ্যেও কারও মুখে বিরক্তির ছাপ নেই; বরং চোখেমুখে উৎসবের আনন্দ আর দায়িত্ব পালনের তৃপ্তি।

যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জেলা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ সর্বদা মাঠে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। আমরা সর্বদা সজাগ রয়েছি, ইনশাআল্লাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।”

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরা মানুষজন প্রমাণ করছেন যে, ভোট কেবল একটি অধিকার নয়, এটি একটি উৎসব, একটি দায়িত্ব এবং দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।