বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রতিটি আসর ঘিরেই থাকে কোনো না কোনো নাটকীয়তা বা নেতিবাচক আলোচনা। এবার টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে একটি স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত আসর আয়োজনের জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে টুর্নামেন্ট শেষে দেখা যাচ্ছে মুদ্রার উল্টো পিঠ। ম্যাচ পাতানোর গুরুতর অভিযোগ এবং দেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বকেয়া থাকার মতো পুরনো সমস্যাগুলো আবারও বিপিএলের গায়ে কলঙ্কের দাগ ফেলেছে। ফলে একটি সফল আসর সমাপ্তির স্বস্তি নেই খোদ আয়োজক সংস্থা বিসিবির মাঝেও।
এবারের আসরে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা বৈষম্য লক্ষ্য করা গেছে। টুর্নামেন্ট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি ক্রিকেটারদের পাওনা শতভাগ মিটিয়ে দেওয়া হলেও দেশি ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। অংশগ্রহণকারী ছয়টি দলের মধ্যে তিনটি দলই এখনো স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পুরোপুরি পরিশোধ করেনি। যদিও চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স এবং রংপুর রাইডার্স টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পরপরই সব পাওনা মিটিয়ে দিয়ে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে। অন্যদিকে, মালিকানা জটিলতার কারণে বিসিবির সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত চট্টগ্রাম রয়্যালসের ক্রিকেটারদের পাওনা এখনো পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়নি। তবে বোর্ডের অধীনে থাকায় এ নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে খুব একটা উদ্বেগ দেখা যায়নি।
আসল সংকট তৈরি হয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস, সিলেট টাইটান্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসকে ঘিরে। এই তিন দলের ক্রিকেটারদের বড় অংকের পারিশ্রমিক এখনো বকেয়া রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট চলাকালীন ক্রিকেটারদের অন্তত ৭৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্রিকেটার পেয়েছেন মাত্র ২৫ শতাংশ। এ নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর না পাওয়া গেলেও বিসিবি জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের পাওনা আদায়ে তারা কাজ করছে। প্রতিটি দলের কাছ থেকে নেওয়া ৫ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করার আশ্বাস দিয়েছে বোর্ড। তবে বড় অঙ্কের ব্যাংক গ্যারান্টি থাকার পরও কেন দলগুলো পাওনা মেটাতে গড়িমসি করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আর্থিক অনিয়মের চেয়েও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে ফিক্সিং বা ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ। আসর শুরুর আগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অন্তত ১০ জন ক্রিকেটারকে ড্রাফটের বাইরে রাখা এবং আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের সাবেক প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে নিয়োগ দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু এত সতর্কতার মাঝেও খোদ বিসিবি পরিচালক মুখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ ওঠায় ক্রীড়াঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক ম্যাচে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চালাচ্ছে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিট।
একটি পরিচ্ছন্ন বিপিএল উপহার দেওয়ার যে অঙ্গীকার বিসিবি শীর্ষ পর্যায় থেকে করা হয়েছিল, মাঠের বাস্তবতায় তার প্রতিফলন ঘটেনি। আর্থিক অনিয়ম আর ফিক্সিংয়ের ছায়া বিপিএলের জৌলুসকে আবারও ম্লান করে দিয়েছে। এই সামগ্রিক ব্যর্থতার দায়ভার এখন কার ওপর বর্তাবে, ক্রিকেট মহলে এখন সেই আলোচনাটিই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 























