ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় পাকিস্তান, সমঝোতার পথে আইসিসি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সংস্থাটি পাকিস্তানকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে নমনীয় ও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের জাতীয় দল ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তবে টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। মূলত বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে আইসিসির সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই এই বয়কটের পথ বেছে নিয়েছে দেশটি।

পাকিস্তান সরকারের এই ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আইসিসি। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, পাকিস্তান সরকারের দেওয়া বক্তব্য তারা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আইসিসি মনে করে, কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মূল লক্ষ্যের পরিপন্থী। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল সমান শর্তে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—এটাই খেলাধুলার সাধারণ নিয়ম। পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থান প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও ক্রিকেটের স্পোর্টিং স্পিরিটকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

আইসিসি তাদের বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলেছে, প্রতিটি দেশের জাতীয় নীতি ও সরকারি সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতো একটি হাই-ভোল্টেজ লড়াই বাতিল হওয়া বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে কিংবা সাধারণ সমর্থকদের জন্য সুখকর নয়। পিসিবিকে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসি বলেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা থেকে খোদ পিসিবিও মুক্ত থাকবে না।

বর্তমান সংকট নিরসনে আশাবাদ ব্যক্ত করে আইসিসি জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো আগামী বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা। এটি সফল করা পিসিবিসহ প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আইসিসি প্রত্যাশা করছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসির এই বার্তার পর পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনে কি না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে অনড় পাকিস্তান, সমঝোতার পথে আইসিসি

আপডেট সময় : ১০:৪০:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে কোনো ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান। বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসির নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সংস্থাটি পাকিস্তানকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে নমনীয় ও ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের জাতীয় দল ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তবে টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। মূলত বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে আইসিসির সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই এই বয়কটের পথ বেছে নিয়েছে দেশটি।

পাকিস্তান সরকারের এই ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আইসিসি। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, পাকিস্তান সরকারের দেওয়া বক্তব্য তারা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠির অপেক্ষায় রয়েছে তারা। আইসিসি মনে করে, কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের মূল লক্ষ্যের পরিপন্থী। একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল সমান শর্তে এবং নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে—এটাই খেলাধুলার সাধারণ নিয়ম। পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থান প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ও ক্রিকেটের স্পোর্টিং স্পিরিটকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

আইসিসি তাদের বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলেছে, প্রতিটি দেশের জাতীয় নীতি ও সরকারি সিদ্ধান্তকে তারা সম্মান করে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতো একটি হাই-ভোল্টেজ লড়াই বাতিল হওয়া বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে কিংবা সাধারণ সমর্থকদের জন্য সুখকর নয়। পিসিবিকে বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে ভাবার অনুরোধ জানিয়ে আইসিসি বলেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদে ক্রিকেটের সামগ্রিক কাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা থেকে খোদ পিসিবিও মুক্ত থাকবে না।

বর্তমান সংকট নিরসনে আশাবাদ ব্যক্ত করে আইসিসি জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো আগামী বিশ্বকাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা। এটি সফল করা পিসিবিসহ প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব। উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আইসিসি প্রত্যাশা করছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসির এই বার্তার পর পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনে কি না।