ঢাকা ০৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

মিরপুর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি: বিসিবির রহস্যময় সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের অবাধ যাতায়াতে হঠাৎ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে আকস্মিক এই কড়াকড়িতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিসিবির পক্ষ থেকে ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখানো হলেও, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ মহলেই এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাধারণত ম্যাচ কিংবা বিশেষ কোনো আয়োজন না থাকলে দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামের মূল ফটক বন্ধ থাকলেও সাংবাদিকদের জন্য তা সবসময় উন্মুক্ত থাকে। তবে গত পরশু সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি জানায়, এখন থেকে স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিয়ম অনুসরণ করা হবে। ম্যাচ চলাকালীন বাড়তি নিরাপত্তা স্বাভাবিক বিষয় হলেও, সাধারণ সময়ে কেন এই কঠোরতা, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।

বিসিবির এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে খোদ বোর্ড সংশ্লিষ্টরাই অনেকটা অন্ধকারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, বোর্ডের শীর্ষ পর্যায় থেকে এককভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা অনেক পরিচালকও আগে থেকে জানতেন না। মিডিয়া কমিটির পক্ষ থেকে কেবল সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

বিসিবির এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তারা মনে করছেন, ক্রিকেট বোর্ড ও সমর্থকদের মধ্যে সাংবাদিকরাই মূল সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অর্থ হলো ক্রিকেটকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। মাঠের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কিংবা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অসংগতি আড়াল করতেই সংবাদমাধ্যমের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের এই কৌশল নেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। প্রবীণ সংবাদকর্মীদের মতে, বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘটনা নজিরবিহীন।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ দলের সাফল্য যখন চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। বিসিবি যেখানে সংবাদমাধ্যমকে ‘শত্রু’ ভাবছে না বলে দাবি করছে, সেখানে কেন এই প্রবেশাধিকার সীমিত করা হলো, তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিসিবির জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নিয়ম ‘সবার জন্য’ (অল পারসনস) সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ক্রিকেটারদের প্রবেশাধিকার নিয়েও এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। মাঠের ক্রিকেটারদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই যেখানে ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড়িয়ে, সেখানে ক্রিকেটার ও সংবাদকর্মীদের জন্য স্টেডিয়ামের দুয়ার সংকুচিত করার বিষয়টি ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি আরও সংকটে পড়তে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশে কড়াকড়ি: বিসিবির রহস্যময় সিদ্ধান্তে সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় : ০৯:০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের অবাধ যাতায়াতে হঠাৎ বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে আকস্মিক এই কড়াকড়িতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিসিবির পক্ষ থেকে ‘নিরাপত্তাজনিত’ কারণ দেখানো হলেও, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ মহলেই এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সাধারণত ম্যাচ কিংবা বিশেষ কোনো আয়োজন না থাকলে দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামের মূল ফটক বন্ধ থাকলেও সাংবাদিকদের জন্য তা সবসময় উন্মুক্ত থাকে। তবে গত পরশু সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি জানায়, এখন থেকে স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নিয়ম অনুসরণ করা হবে। ম্যাচ চলাকালীন বাড়তি নিরাপত্তা স্বাভাবিক বিষয় হলেও, সাধারণ সময়ে কেন এই কঠোরতা, তা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।

বিসিবির এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে খোদ বোর্ড সংশ্লিষ্টরাই অনেকটা অন্ধকারে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন এই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, বোর্ডের শীর্ষ পর্যায় থেকে এককভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা অনেক পরিচালকও আগে থেকে জানতেন না। মিডিয়া কমিটির পক্ষ থেকে কেবল সিদ্ধান্তটি কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

বিসিবির এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তারা মনে করছেন, ক্রিকেট বোর্ড ও সমর্থকদের মধ্যে সাংবাদিকরাই মূল সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অর্থ হলো ক্রিকেটকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। মাঠের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কিংবা বোর্ডের অভ্যন্তরীণ অসংগতি আড়াল করতেই সংবাদমাধ্যমের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের এই কৌশল নেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। প্রবীণ সংবাদকর্মীদের মতে, বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে এমন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ঘটনা নজিরবিহীন।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ দলের সাফল্য যখন চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করা ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। বিসিবি যেখানে সংবাদমাধ্যমকে ‘শত্রু’ ভাবছে না বলে দাবি করছে, সেখানে কেন এই প্রবেশাধিকার সীমিত করা হলো, তার কোনো সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিসিবির জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নিয়ম ‘সবার জন্য’ (অল পারসনস) সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে ক্রিকেটারদের প্রবেশাধিকার নিয়েও এক ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। মাঠের ক্রিকেটারদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করেই যেখানে ক্রিকেট বোর্ডের প্রশাসনিক কাঠামো দাঁড়িয়ে, সেখানে ক্রিকেটার ও সংবাদকর্মীদের জন্য স্টেডিয়ামের দুয়ার সংকুচিত করার বিষয়টি ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি আরও সংকটে পড়তে পারে।