জুলাই বিপ্লব পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। বিগত দেড় দশকে একচেটিয়া নির্বাচনের কারণে নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি বলে যে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে। এবারের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রচারণার ধরনেও এসেছে আমূল পরিবর্তন। রাজপথের সভা-সমাবেশের পাশাপাশি প্রার্থীরা এখন সমানতালে গুরুত্ব দিচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এখন নির্বাচনি প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে ডিজিটাল প্রচারণা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের থিম সং, নির্বাচনি উদ্দীপক গান এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওচিত্রগুলো অনলাইনে লাখ লাখ ভিউ পাচ্ছে, যা প্রমাণ করে সাধারণ মানুষের নজর এখন ভার্চুয়াল জগতের দিকে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের মধ্যে সাইবার যুদ্ধ ততটাই তীব্র হচ্ছে। প্রতিটি দলই তাদের লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতির চিরচেনা প্রেক্ষাপট এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। দেশের ভোটার তালিকার একটি বিশাল অংশ এখন তরুণ এবং তাদের অধিকাংশেরই হাতে রয়েছে স্মার্টফোন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে এড়িয়ে প্রথাগত প্রচারণায় সফল হওয়া বর্তমান সময়ে প্রায় অসম্ভব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সংসদ নির্বাচনের জন্য হাতে সময় অত্যন্ত সীমিত। এই অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিটি ভোটারের কাছে সশরীরে পৌঁছানো কঠিন চ্যালেঞ্জ হওয়ায় প্রার্থীরা বিকল্প ও দ্রুততম পথ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়াকেই বেছে নিয়েছেন।
সার্বিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাজপথে আগের মতো উত্তাল মিছিল-মিটিংয়ের চেয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতেই নির্বাচনি উত্তাপ বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে এবারের নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। গতানুগতিক প্রচারণার চেয়ে এই আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর প্রচারণা ভোটারদের মনস্তত্ত্বে গভীর প্রভাব ফেলছে, যা শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























