ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়বে না: গুজব নাকচ করে সরকারের ব্যাখ্যা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধি পাবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে নাকচ করে দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ সংক্রান্ত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে নানাবিধ অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফলাফল সরকারের পক্ষে গেলে বর্তমান প্রশাসন আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে। এই অপপ্রচারের অংশ হিসেবে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডও বিকৃত করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকৃত ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রিয়াজের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। অধ্যাপক রিয়াজ মূলত বলেছিলেন, নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম ১৮০ দিন সাধারণ আইনপ্রণেতার পাশাপাশি ‘গণপরিষদ’ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। এটি ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়নের মতো নিয়মিত কাজগুলো করবেন, তবে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য তারা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক আলী রিয়াজ কোথাও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা বলেননি। বরং তিনি পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় এলে পরবর্তী জাতীয় সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। অর্থাৎ, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।

সরকারি আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গণভোটের ফলাফল ‘হ্যাঁ’ হলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ তাদের প্রথম বৈঠকের পর থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে এবং এরপর পরিষদের বিশেষ কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।

সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই সময়কালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একদিকে দেশ পরিচালনা করবেন, অন্যদিকে সংবিধান সংস্কারের কাজ করবেন। প্রচলিত কোনো আদেশ বা আইনি কাঠামোতে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো সুযোগ বা ইঙ্গিত নেই। সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সাধারণ সংসদ সদস্য হিসেবেই তাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন বিমান বাহিনীর ড্রোন সরবরাহ করবে ট্রাম্পের ছেলেদের কোম্পানি

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়বে না: গুজব নাকচ করে সরকারের ব্যাখ্যা

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ আরও ছয় মাস বৃদ্ধি পাবে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে নাকচ করে দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ সংক্রান্ত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে নানাবিধ অসত্য তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফলাফল সরকারের পক্ষে গেলে বর্তমান প্রশাসন আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে। এই অপপ্রচারের অংশ হিসেবে একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ডও বিকৃত করে ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকৃত ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বিবৃতিতে জানানো হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রিয়াজের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। অধ্যাপক রিয়াজ মূলত বলেছিলেন, নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথম ১৮০ দিন সাধারণ আইনপ্রণেতার পাশাপাশি ‘গণপরিষদ’ বা সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। এটি ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাজেট প্রণয়নের মতো নিয়মিত কাজগুলো করবেন, তবে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য তারা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অধ্যাপক আলী রিয়াজ কোথাও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বৃদ্ধির কথা বলেননি। বরং তিনি পরবর্তী নির্বাচিত সংসদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় এলে পরবর্তী জাতীয় সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। অর্থাৎ, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন।

সরকারি আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গণভোটের ফলাফল ‘হ্যাঁ’ হলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ তাদের প্রথম বৈঠকের পর থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করবে এবং এরপর পরিষদের বিশেষ কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে।

সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই সময়কালে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একদিকে দেশ পরিচালনা করবেন, অন্যদিকে সংবিধান সংস্কারের কাজ করবেন। প্রচলিত কোনো আদেশ বা আইনি কাঠামোতে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো সুযোগ বা ইঙ্গিত নেই। সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সাধারণ সংসদ সদস্য হিসেবেই তাদের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন।