ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

বিআরটিসি চালক ও কর্মীদের চক্ষুসেবায় ভিশনস্প্রিংয়ের সঙ্গে চুক্তি; ৪ হাজার কর্মী পাবেন চশমা

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং চালকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। সংস্থাটির প্রায় ৪ হাজার চালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চক্ষুসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর মতিঝিলে পরিবহন ভবনের সভাকক্ষে এই চুক্তি সই হয়।

বিআরটিসি’র পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন। এই চুক্তির আওতায়, ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ বিআরটিসি’র প্রায় ৪ হাজার চালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিনামূল্যে চক্ষুপরীক্ষা সেবা প্রদান করবে। যাদের চশমার প্রয়োজন হবে, তাদের রিডিং ও প্রেসক্রিপশন উভয় ধরনের চশমা সরবরাহ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিআরটিসি ডিপো/ইউনিটগুলোতে এই চক্ষুপরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তা সম্প্রসারিত হবে। সেবাগ্রহীতাদের জনপ্রতি ৫০ টাকা নিবন্ধন ফি প্রদান করতে হবে। এই কার্যক্রম আগামী ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, “ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আমাদের চালকরা এই চক্ষুপরীক্ষা সেবার আওতায় এলে, তাদের চোখের সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে চালকদের চক্ষু সমস্যার কারণে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন বলেন, “বাংলাদেশে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রায় ৫ লাখ শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করেছি এবং তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি শ্রমিকের চশমার প্রয়োজন হয়েছিল, যা তাদের সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা এই সেবা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।” তিনি আরও জানান, ২০০১ সাল থেকে ভিশনস্প্রিং নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে চশমা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিসি’র পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) ড. অনুপম সাহা, পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মোঃ রাহেনুল ইসলাম, পরিচালক (কারিগরি ও প্রশিক্ষণ) কর্নেল কাজী আইয়ুব আলী, কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এবং প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত: ২৫ কার্যদিবসে রেকর্ড ৯৪ বিল পাস

বিআরটিসি চালক ও কর্মীদের চক্ষুসেবায় ভিশনস্প্রিংয়ের সঙ্গে চুক্তি; ৪ হাজার কর্মী পাবেন চশমা

আপডেট সময় : ০৮:২৮:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং চালকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। সংস্থাটির প্রায় ৪ হাজার চালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চক্ষুসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর মতিঝিলে পরিবহন ভবনের সভাকক্ষে এই চুক্তি সই হয়।

বিআরটিসি’র পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন। এই চুক্তির আওতায়, ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশ বিআরটিসি’র প্রায় ৪ হাজার চালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিনামূল্যে চক্ষুপরীক্ষা সেবা প্রদান করবে। যাদের চশমার প্রয়োজন হবে, তাদের রিডিং ও প্রেসক্রিপশন উভয় ধরনের চশমা সরবরাহ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে ঢাকার বিআরটিসি ডিপো/ইউনিটগুলোতে এই চক্ষুপরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে সারাদেশে তা সম্প্রসারিত হবে। সেবাগ্রহীতাদের জনপ্রতি ৫০ টাকা নিবন্ধন ফি প্রদান করতে হবে। এই কার্যক্রম আগামী ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, “ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আমাদের চালকরা এই চক্ষুপরীক্ষা সেবার আওতায় এলে, তাদের চোখের সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে চালকদের চক্ষু সমস্যার কারণে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন বলেন, “বাংলাদেশে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রায় ৫ লাখ শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করেছি এবং তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি শ্রমিকের চশমার প্রয়োজন হয়েছিল, যা তাদের সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা এই সেবা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।” তিনি আরও জানান, ২০০১ সাল থেকে ভিশনস্প্রিং নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে চশমা পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিসি’র পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) ড. অনুপম সাহা, পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মোঃ রাহেনুল ইসলাম, পরিচালক (কারিগরি ও প্রশিক্ষণ) কর্নেল কাজী আইয়ুব আলী, কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এবং প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।