এল ক্লাসিকোর মতো একটা বড় ম্যাচে শুধু কথার লড়াই হবে না, একটু-আধটু ধাক্কাধাক্কিও থাকবে, এটাই তো স্বাভাবিক। একটা সময় ছিল যখন লিওনেল মেসি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর যুগে এই দুই দলের খেলোয়াড়রা প্রায়ই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়তেন। যুগ পাল্টে এখন লামিনে ইয়ামাল আর কিলিয়ান এমবাপের সময় এলেও, সেই পুরনো উত্তাপটা যেন ঠিকই রয়ে গেছে।
বার্সেলোনার কাছে টানা চারবার হারার পর রিয়াল মাদ্রিদ অবশেষে গতরাতে জয়ের মুখ দেখল। জুড বেলিংহাম আর এমবাপের গোলে তারা লা লিগায় ২-১ ব্যবধানে জিতে পয়েন্ট টেবিলের এক নম্বরে নিজেদের জায়গা আরও পাকা করে নিল। কিন্তু ম্যাচ শেষ হওয়ামাত্রই, রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে, দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচণ্ড উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে রিয়ালের খেলোয়াড়দের দেখা গেল, তারা সবাই মিলে ইয়ামালের ওপর ক্ষোভ ঝাড়ছেন।
প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের এই ধরনের আচরণ বার্সেলোনার সহকারী কোচের একদমই পছন্দ হয়নি। দলের প্রধান কোচ হান্সি ফ্লিক লাল কার্ড দেখে এই ম্যাচে নিষিদ্ধ ছিলেন, তাই তার বদলে ডাগ-আউটের দায়িত্বে ছিলেন এই সহকারী কোচ মার্কাস সর্গ।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে মার্কাস সর্গকে ইয়ামালের পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের ওই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে হয়। তিনি বলেন, ‘দিনটা ইয়ামালের জন্য বেশ কঠিন ছিল। তাকে যে শুধু দর্শকদের টিটকিরি সহ্য করতে হয়েছে তা-ই নয়, রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়দের আচরণও ভালো ছিল না, যা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়।’
আসলে এই উত্তেজনার আগুনটা ম্যাচ শুরুর আগেই ইয়ামালের একটা মন্তব্য থেকেই জ্বলে উঠেছিল। বার্সেলোনার এই তারকা একটা লাইভ স্ট্রিমিংয়ে বলে ফেলেছিলেন, ‘রিয়াল প্রথমে চুরি করে, তারপর আবার তারাই অভিযোগ করে।’ প্রতিপক্ষের একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন কথা শুনে রিয়ালের খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই রেগে ছিলেন। তাই ম্যাচ শেষেই দেখা গেল, রিয়ালের দানি কারবাহাল, থিয়াবো কোর্তোয়া আর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একরকম তেড়েই আসছিলেন ইয়ামালের দিকে।
অবশ্য পুরো ম্যাচেই রিয়ালের খেলোয়াড়রা ইয়ামালকে বেশ ভালোভাবেই আটকে রেখেছিলেন। গত মৌসুমের এল ক্লাসিকোতে দুর্দান্ত খেলে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখলেও, কালকের ম্যাচে ইয়ামাল ছিলেন একেবারেই নিষ্প্রভ। ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার গোলের জন্য তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেননি।
বার্সার সহকারী কোচ সর্গ মনে করেন, বার্নাব্যুর (রিয়ালের মাঠ) বৈরী পরিবেশটাই ইয়ামালের খেলার ওপর প্রভাব ফেলেছে। তিনি বলেন, ‘হয়তো কিছুটা প্রভাব পড়েছে। কারণ সে এখনও শিখছে যে কীভাবে দর্শকদের চিৎকার, টিটকিরি—এই সব কিছু সামাল দিতে হয়। এটা তার শেখারই একটা অংশ। সাধারণত সে মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে থাকে এবং ভালোও খেলে, কিন্তু আজকের দিনটা আসলেই তার জন্য কঠিন ছিল।’
এই তরুণ উইঙ্গারের জন্য সবার সমর্থন চেয়ে সর্গ বলেন, ‘ইয়ামাল সবেমাত্র ইনজুরি থেকে ফিরেছে। তার পুরোপুরি ফিট হতে আরও সময় লাগবে। ছন্দ ফিরে পাওয়ার জন্য তার আরও বড় ম্যাচ খেলা দরকার। ওর বয়স তো মাত্র ১৮, তাই ওকে সময় দিতে হবে, সাহায্য করতে হবে—আর আমরা সবাই ওকে সেই সাহায্যটা করব।’
রিপোর্টারের নাম 

























