ঢাকা ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

নির্বাচনের আগে লুটের অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার; ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনে জোর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। একইসঙ্গে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন এবং নির্বাচনের আগে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “লুট করা অস্ত্র যে করেই হোক নির্বাচনের আগে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করতে হবে।”

বৈঠকে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে সারা দেশের প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে, ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিটিতে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এবং তাদের অর্থায়নে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে সব জেলায় শুরু হয়েছে এবং জোরেশোরে চলছে। কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।

গাজীপুর জেলার অগ্রগতির কথা তুলে ধরে উপপ্রেস সচিব বলেন, সেখানে মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় অধিকাংশ স্থানে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে।

এছাড়া, সারা দেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই বলেও জানানো হয়। এসব কেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে ভোটের দিন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করাই সরকারের দায়িত্ব। নির্বাচন সংক্রান্ত আরেক প্রশ্নে প্রেস সচিব নিশ্চিত করেন যে, নির্বাচন নিয়ে কোনো রকমের অনিশ্চয়তা নেই এবং নির্ধারিত সময়েই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি হবে, একদিন আগেও না, একদিন পরেও না এবং খুব সুন্দরভাবে হবে।”

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত অধিদপ্তরকে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা বিভাগ একীভূত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠনের বিষয়টিও ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পেয়েছে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর অধীনে ৫০টি থানা রয়েছে, যা একটি বিশাল কর্মপরিধি। এই কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে ডিএমপিকে উত্তর ও দক্ষিণসহ একাধিক অংশে ভাগ করা যায় কিনা, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

নির্বাচনের আগে লুটের অস্ত্র উদ্ধারের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার; ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনে জোর

আপডেট সময় : ০৪:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। একইসঙ্গে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন এবং নির্বাচনের আগে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দেন। প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “লুট করা অস্ত্র যে করেই হোক নির্বাচনের আগে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করতে হবে।”

বৈঠকে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট উপলক্ষে সারা দেশের প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে, ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি রয়েছে।

তিনি আরও জানান, অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসাতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিটিতে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে এবং তাদের অর্থায়নে সিসিটিভি স্থাপন করা হবে। এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে সব জেলায় শুরু হয়েছে এবং জোরেশোরে চলছে। কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।

গাজীপুর জেলার অগ্রগতির কথা তুলে ধরে উপপ্রেস সচিব বলেন, সেখানে মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় অধিকাংশ স্থানে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে।

এছাড়া, সারা দেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই বলেও জানানো হয়। এসব কেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে ভোটের দিন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করাই সরকারের দায়িত্ব। নির্বাচন সংক্রান্ত আরেক প্রশ্নে প্রেস সচিব নিশ্চিত করেন যে, নির্বাচন নিয়ে কোনো রকমের অনিশ্চয়তা নেই এবং নির্ধারিত সময়েই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি হবে, একদিন আগেও না, একদিন পরেও না এবং খুব সুন্দরভাবে হবে।”

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত অধিদপ্তরকে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা বিভাগ একীভূত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠনের বিষয়টিও ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পেয়েছে।

প্রেস সচিব আরও বলেন, বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর অধীনে ৫০টি থানা রয়েছে, যা একটি বিশাল কর্মপরিধি। এই কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে ডিএমপিকে উত্তর ও দক্ষিণসহ একাধিক অংশে ভাগ করা যায় কিনা, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।