ঢাকা ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

শত শত একর জমিতে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

## কেশবপুরে বোরো আবাদ ব্যাহত: জলাবদ্ধতা ও ঘের মালিকদের অসহযোগিতায় হতাশ কৃষক

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। প্রায় পাঁচশ হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা এবং ঘের মালিকদের অসহযোগিতার কারণে সময়মতো সেচ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয় দেখা দিয়েছে, যা জেলার খাদ্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন বিলে জলাবদ্ধতা এবং সেচ সুবিধার অভাবের কারণে প্রায় পাঁচশ হেক্টর জমিতে এই আবাদ সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে বিল বলধালী ও বুড়লী বন্যার বিলসহ ২০টি বিলের অবস্থা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫ হেক্টর জমিতে ঘেরের পানি সেচ না দেওয়ায় আবাদ করা সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে প্রায় এক হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যা তাদের অর্থনৈতিক জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

এ বছর বোরো ধানের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮৪ হাজার ৫০০ টন, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে, কৃষি অফিসের হিসাবমতে, উৎপাদন প্রায় ১২ হাজার ৬৭ টন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মাঘ মাস চলে এলেও উপজেলার মধ্যকুল, বিলবলধালী, হাবাসপোল বিল, চুয়াডাঙ্গা বিল, ঘাঘা বিল, পাথরা বিল, বুড়লী বন্যার বিল, বিল খুখশিয়া, সুফলাকাটি বিল, নারাণপুর বিল, কালীচরণপুর বিল, মনোহরপুর বিল, বিলগরালিয়া, বাগডাঙ্গার বিল এবং পৌর শহরের বিল বলধালীসহ প্রায় ২০টি বিলের পানি সময়মতো সেচ দেওয়া হয়নি। এর পেছনে কিছু ঘের মালিকের অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন তারা। এই কারণে অনেক কৃষক এখনো বীজতলা তৈরি করতে পারেননি।

অন্যদিকে, ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার হরিহরসহ পাঁচটি নদীর সাড়ে ৮১ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে হরিহন নদীতে বাঁধ দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ঘের মালিকদের তাদের ঘেরের পানি সেচ দেওয়ার জন্য একাধিকবার মাইকিং করলেও, কিছু ঘের মালিকের অনীহার কারণে পরিস্থিতি বদলায়নি।

গত বছর কেশবপুরে সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। এই বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি কৃষকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “চলতি বছর কেশবপুরে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আট হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ শেষ হয়েছে। বাকি জমিতে রোপণের কাজ চলছে। তবে, জলাবদ্ধতার কারণে ১৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছি। এতে ধান উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।”

কৃষকরা এই সংকট মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কৃষি অফিসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, এই মৌসুমে বোরো আবাদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান ৬৬০ সুন্নি ধর্মীয় নেতার

শত শত একর জমিতে বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

## কেশবপুরে বোরো আবাদ ব্যাহত: জলাবদ্ধতা ও ঘের মালিকদের অসহযোগিতায় হতাশ কৃষক

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। প্রায় পাঁচশ হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা এবং ঘের মালিকদের অসহযোগিতার কারণে সময়মতো সেচ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয় দেখা দিয়েছে, যা জেলার খাদ্য উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন বিলে জলাবদ্ধতা এবং সেচ সুবিধার অভাবের কারণে প্রায় পাঁচশ হেক্টর জমিতে এই আবাদ সম্ভব হচ্ছে না। এর মধ্যে বিল বলধালী ও বুড়লী বন্যার বিলসহ ২০টি বিলের অবস্থা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫ হেক্টর জমিতে ঘেরের পানি সেচ না দেওয়ায় আবাদ করা সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে প্রায় এক হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যা তাদের অর্থনৈতিক জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

এ বছর বোরো ধানের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮৪ হাজার ৫০০ টন, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে, কৃষি অফিসের হিসাবমতে, উৎপাদন প্রায় ১২ হাজার ৬৭ টন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মাঘ মাস চলে এলেও উপজেলার মধ্যকুল, বিলবলধালী, হাবাসপোল বিল, চুয়াডাঙ্গা বিল, ঘাঘা বিল, পাথরা বিল, বুড়লী বন্যার বিল, বিল খুখশিয়া, সুফলাকাটি বিল, নারাণপুর বিল, কালীচরণপুর বিল, মনোহরপুর বিল, বিলগরালিয়া, বাগডাঙ্গার বিল এবং পৌর শহরের বিল বলধালীসহ প্রায় ২০টি বিলের পানি সময়মতো সেচ দেওয়া হয়নি। এর পেছনে কিছু ঘের মালিকের অসহযোগিতাকে দায়ী করছেন তারা। এই কারণে অনেক কৃষক এখনো বীজতলা তৈরি করতে পারেননি।

অন্যদিকে, ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে সরকার হরিহরসহ পাঁচটি নদীর সাড়ে ৮১ কিলোমিটার নদী খনন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে হরিহন নদীতে বাঁধ দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ঘের মালিকদের তাদের ঘেরের পানি সেচ দেওয়ার জন্য একাধিকবার মাইকিং করলেও, কিছু ঘের মালিকের অনীহার কারণে পরিস্থিতি বদলায়নি।

গত বছর কেশবপুরে সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। এই বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি কৃষকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “চলতি বছর কেশবপুরে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আট হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ শেষ হয়েছে। বাকি জমিতে রোপণের কাজ চলছে। তবে, জলাবদ্ধতার কারণে ১৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছি। এতে ধান উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হতে পারে।”

কৃষকরা এই সংকট মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কৃষি অফিসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে, এই মৌসুমে বোরো আবাদ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।