ঢাকা ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

সিরাজগঞ্জে জোটের প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ, রায়গঞ্জ-তাড়াশে আলোচনায় নতুন মেরুকরণ

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের সংসদীয় আসনগুলোতে জোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জেলার ৬টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চারটিতে জামায়াত এবং বাকি দুটিতে শরিক দলগুলোর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটের অভ্যন্তরে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুর রউফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এই এলাকায় গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর শায়খ ড. আব্দুস সামাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. আব্দুস সামাদ এই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমে তিনি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে শরিক দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় ভোটের সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমর্থকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক কর্মী জানান, জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, একই আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক ভিপি আয়নুল হককে প্রার্থী করা হয়েছে। প্রধান দলগুলোর পাশাপাশি এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এলাকার পরিচিত এবং যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিতে চান। রায়গঞ্জ ও তাড়াশ এলাকার বাসিন্দাদের মতে, স্থানীয় উন্নয়নের জন্য প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং পরিচিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের অন্য আসনগুলোতেও জোটের প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে রায়গঞ্জ-তাড়াশ আসনের এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। মূলত শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়া এবং হেভিওয়েট প্রার্থী বাদ পড়ার বিষয়টিই এখন জেলার রাজনৈতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান ৬৬০ সুন্নি ধর্মীয় নেতার

সিরাজগঞ্জে জোটের প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ, রায়গঞ্জ-তাড়াশে আলোচনায় নতুন মেরুকরণ

আপডেট সময় : ১১:০৯:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের সংসদীয় আসনগুলোতে জোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জেলার ৬টি আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চারটিতে জামায়াত এবং বাকি দুটিতে শরিক দলগুলোর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনে প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটের অভ্যন্তরে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে জোটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুর রউফকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এই এলাকায় গণসংযোগ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর শায়খ ড. আব্দুস সামাদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড. আব্দুস সামাদ এই আসনে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে কাজের মাধ্যমে তিনি একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে শরিক দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ায় ভোটের সমীকরণে বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমর্থকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক কর্মী জানান, জয়ের সম্ভাবনা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে এ বিষয়ে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, একই আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক ভিপি আয়নুল হককে প্রার্থী করা হয়েছে। প্রধান দলগুলোর পাশাপাশি এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরাও নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন।

সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এলাকার পরিচিত এবং যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নিতে চান। রায়গঞ্জ ও তাড়াশ এলাকার বাসিন্দাদের মতে, স্থানীয় উন্নয়নের জন্য প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং পরিচিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

সিরাজগঞ্জের অন্য আসনগুলোতেও জোটের প্রার্থী তালিকা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে রায়গঞ্জ-তাড়াশ আসনের এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। মূলত শরিকদের আসন ছেড়ে দেওয়া এবং হেভিওয়েট প্রার্থী বাদ পড়ার বিষয়টিই এখন জেলার রাজনৈতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রে রয়েছে।