ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬

সাতকানিয়ায় গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ: স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে আমেনা বেগম (২৪) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার বিষপানের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই গৃহবধূ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি ঘটেছে সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারদোনা গ্রামের বাহাদির পাড়ায়। নিহত আমেনা বেগম একই এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফের স্ত্রী ছিলেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে আমেনা ও মোহাম্মদ ইউসুফের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী ও শাশুড়ি আমেনাকে প্রায়শই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

আমেনা বেগমের ভাগ্নে মোহাম্মদ তৌসিফ অভিযোগ করে জানান, গত শুক্রবার সারাদিন আমেনাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার স্বামী ও শাশুড়ি মিলে জোর করে তাকে বিষপান করান। বিষপান করানোর পরপরই তারা দুজনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আমেনাকে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আমেনা বেগম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার স্বামী ও শাশুড়ি তাকে জোর করে বিষ খাইয়েছেন।

আমেনা বেগমের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের মীরপাড়ায়। তিনি দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের জননী।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, “তাদের পারিবারিক কলহ নিয়ে এর আগেও আমার কাছে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তখন ছেলে পক্ষের আচরণ মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। মেয়েটির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান ৬৬০ সুন্নি ধর্মীয় নেতার

সাতকানিয়ায় গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ: স্বামী-শাশুড়ি পলাতক

আপডেট সময় : ১০:৪৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় স্বামী ও শাশুড়ির বিরুদ্ধে জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে আমেনা বেগম (২৪) নামের এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার বিষপানের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই গৃহবধূ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি ঘটেছে সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারদোনা গ্রামের বাহাদির পাড়ায়। নিহত আমেনা বেগম একই এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফের স্ত্রী ছিলেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ২০২২ সালে পারিবারিকভাবে আমেনা ও মোহাম্মদ ইউসুফের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী ও শাশুড়ি আমেনাকে প্রায়শই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।

আমেনা বেগমের ভাগ্নে মোহাম্মদ তৌসিফ অভিযোগ করে জানান, গত শুক্রবার সারাদিন আমেনাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার স্বামী ও শাশুড়ি মিলে জোর করে তাকে বিষপান করান। বিষপান করানোর পরপরই তারা দুজনে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আমেনাকে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে আমেনা বেগম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার স্বামী ও শাশুড়ি তাকে জোর করে বিষ খাইয়েছেন।

আমেনা বেগমের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের মীরপাড়ায়। তিনি দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের জননী।

এ বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, “তাদের পারিবারিক কলহ নিয়ে এর আগেও আমার কাছে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তখন ছেলে পক্ষের আচরণ মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। মেয়েটির এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।”