ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

মিরসরাইয়ে ব্যাংক ফটকে বৃদ্ধের লাখ টাকা ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বের হওয়ার পরপরই ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ। দিনের বেলায় জনাকীর্ণ এলাকায় এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরসরাই পৌর সদরের ওই ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা বৃদ্ধের কষ্টার্জিত এক লাখ টাকা নিয়ে সটকে পড়ে।

ভুক্তভোগী মনসুর আহাম্মদ (৬০) উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ঘটনার বিবরণে তিনি জানান, ব্যাংক থেকে নিজের জমানো দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করে গায়ে পরিহিত কোর্টের ভেতরের পকেটে ৫০ হাজার ও ১ লাখ টাকা রেখে বের হচ্ছিলেন। ব্যাংকের মূল ফটকে পৌঁছাতেই মুখোশ পরা দুই যুবক অতর্কিতভাবে তাঁর এক পকেটে হাত দিয়ে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আকস্মিক এই ঘটনায় তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।

নিজের কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মনসুর আহাম্মদ। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর ছেলের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় পারিবারিক কাজেই এই টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। প্রবাস জীবন থেকে সঞ্চয় করা এই অর্থ হারানোর শোক তাঁকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।

মনসুর আহাম্মদের বড় ছেলে তায়েফ জানান, ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তাদের গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, “ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সিকিউরিটি গার্ড দায়সারাভাবে বলেছে, গেটের বাইরে কী হচ্ছে, তা তাদের দেখার বিষয় নয়। এমনকি ব্যাংকের প্রধান ফটকে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো সান্ত্বনা পর্যন্ত দিতে আসেনি।” এ ঘটনায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তায়েফ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিরসরাই উপজেলাজুড়ে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত ছয় মাসে অর্ধশতাধিক চুরি ও ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং ক্ষুদে বার্তারও জবাব দেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

মিরসরাইয়ে ব্যাংক ফটকে বৃদ্ধের লাখ টাকা ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৫:২০:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে বের হওয়ার পরপরই ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন এক ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ। দিনের বেলায় জনাকীর্ণ এলাকায় এমন ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে মিরসরাই পৌর সদরের ওই ব্যাংকের প্রধান ফটকের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা বৃদ্ধের কষ্টার্জিত এক লাখ টাকা নিয়ে সটকে পড়ে।

ভুক্তভোগী মনসুর আহাম্মদ (৬০) উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ঘটনার বিবরণে তিনি জানান, ব্যাংক থেকে নিজের জমানো দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করে গায়ে পরিহিত কোর্টের ভেতরের পকেটে ৫০ হাজার ও ১ লাখ টাকা রেখে বের হচ্ছিলেন। ব্যাংকের মূল ফটকে পৌঁছাতেই মুখোশ পরা দুই যুবক অতর্কিতভাবে তাঁর এক পকেটে হাত দিয়ে এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। আকস্মিক এই ঘটনায় তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন।

নিজের কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মনসুর আহাম্মদ। তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর ছেলের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় পারিবারিক কাজেই এই টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। প্রবাস জীবন থেকে সঞ্চয় করা এই অর্থ হারানোর শোক তাঁকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে।

মনসুর আহাম্মদের বড় ছেলে তায়েফ জানান, ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তাদের গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, “ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। সিকিউরিটি গার্ড দায়সারাভাবে বলেছে, গেটের বাইরে কী হচ্ছে, তা তাদের দেখার বিষয় নয়। এমনকি ব্যাংকের প্রধান ফটকে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো সান্ত্বনা পর্যন্ত দিতে আসেনি।” এ ঘটনায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তায়েফ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মিরসরাই উপজেলাজুড়ে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত ছয় মাসে অর্ধশতাধিক চুরি ও ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে, মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং ক্ষুদে বার্তারও জবাব দেননি।