রাজধানীর সাধারণ মানুষের রান্নার জ্বালানি সংকটে নাভিশ্বাস উঠেছে। একদিকে তিতাসের পাইপলাইনে গ্যাসের তীব্র স্বল্পতা, অন্যদিকে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট ও আকাশচুম্বী দাম—এই দুইয়ে মিলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে তিতাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঢাকার মোহাম্মদপুর, মিরপুর, শেখেরটেক, জিগাতলা, খিলগাঁও ও বাড্ডাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাইপলাইন মেরামত করা হলেও মেরামতের সময় ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছে না। তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইন থেকে পানি পুরোপুরি বের করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে, যা গ্রাহকদের দুর্ভোগকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
গৃহস্থালি গ্যাসের বিকল্প হিসেবে অনেকে এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর ভরসা করলেও সেখানেও চলছে চরম নৈরাজ্য। আমদানি কম হওয়ার অজুহাতে ডিসেম্বর থেকেই বাজারে সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩০৬ টাকার ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন বাজারে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সংকটের সুযোগ নিয়ে খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছেন, আবার অনেক এলাকায় টাকা দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এই দ্বিমুখী সংকটের কারণে সচ্ছল পরিবারগুলো বৈদ্যুতিক চুলা বা রাইস কুকারের দিকে ঝুঁকলেও নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। রাজধানীর দোলাইরপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক নিম্নবিত্ত মানুষকে খোলা জায়গায় মাটির চুলায় কাঠ পুড়িয়ে রান্না করতে দেখা গেছে।
তিতাস গ্যাসের তথ্যমতে, ঢাকায় দৈনিক ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। সাধারণত চাহিদার সমান গ্যাস সরবরাহ করা হলেও অবৈধ সংযোগের কারণে একটি বড় অংশ অপচয় হয়, ফলে বৈধ গ্রাহকরা নিয়মিত গ্যাসের চাপ পান না। তিতাসের পরিচালক (অপারেশন) কাজী সাইদুল হাসান জানিয়েছেন যে, বর্তমানে গ্যাস সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই, বরং আগের চেয়ে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। তবে মোহাম্মদপুরসহ কিছু এলাকায় গ্রাহকদের বাসার ভেতরের পাইপলাইনে পানি ঢুকে পড়ায় সমস্যা প্রকট হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে গ্রাহকদের নিজ উদ্যোগে মিস্ত্রি দিয়ে ভেতরের লাইন পরিষ্কার করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। রান্নার জ্বালানির এই তীব্র সংকটে রাজধানীর বিশাল এক জনগোষ্ঠী এখন দিশেহারা অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।
রিপোর্টারের নাম 























