রাজধানীর কাওরানবাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডে দুই শুটারকে শনাক্ত করে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের গ্রেফতার করতে পুলিশের পাশাপাশি অভিযান শুরু করেছে র্যাব ও ডিবি পুলিশের কয়েকটি টিম। পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েক ডজন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর পরই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই শ্যুটারের চেহারা চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও মিশনে অংশ নিয়েছিল প্রায় পাঁচ থেকে ছয়জন।
পুলিশের ধারণা ভাড়াটে শুটার দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলে এর পেছনে অন্য কোনো নির্দেশনা থাকতে পারে। যার পেছনে চাঁদাবাজি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার কিংবা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ দিকে মুসাব্বির হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার আইনের আওতায় আনতে তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।
গত বুধবার রাতে পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় স্টার কাবাব হোটেলের দ্বিতীয় তলায় আলোচনা শেষে সহকর্মী আবু সুফিয়ান মাসুদকে সাথে নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন মুসাব্বির। সিটি হোন্ডা সার্ভিস পয়েন্টের সামনে গলির মুখে পৌঁছলে আগে থেকে রেকি করা দুর্বৃত্তরা হঠাৎ গুলি চালায়। একটি গুলি লাগে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচে, আরেকটি পেটের ডান পাশে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর দুই শুটার কোমরে পিস্তল গুঁজে মেইন রাস্তা দিয়ে কাওরান বাজারের দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনার আগে ও পরে পরিকল্পিতভাবে রেকি করা হয় এবং মিশন শেষে নির্দিষ্ট পথে পালিয়ে যায় খুনিরা। ঘটনাস্থল থেকে ৭.৬৫ বোর পিস্তলের তিনটি খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মুসাব্বির ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরবের অনুসারী ছিলেন এবং আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতিতে ছিলেন। নিহতের স্ত্রী দাবি করেছেন, রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর কিছু শত্রু তৈরি হয়েছিল বলে স্বামী তাকে জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের অভিযোগ, কমিটিতে বড় পদ ও কাউন্সিলর নির্বাচনে আগ্রহ দেখানোই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কাওরান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সাথেও এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, নিহত মুসাব্বিরের সাথে গুলিবিদ্ধ হওয়া আবু সুফিয়ান মাসুদ কাওরান বাজার ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। এই এলাকার পরিবহন সেক্টর এবং ফুটপাথ থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়িক স্বার্থের পেছনে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, আধিপত্যের লড়াইয়ে মুসাব্বির ও মাসুদের প্রভাব কোনো শক্তিশালী পক্ষের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কি না, তা নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চলছে। সূত্র বলছে, বসুন্ধরা সিটির পেছনে একটি মূল্যবান সরকারি জমি নিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুইডেন আসলামের গোষ্ঠীর সাথে মুসাব্বিরের বিরোধ চলছিল। সুইডেন আসলামের অবর্তমানে কাওরান বাজারের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অন্যদের হাতে। যার মধ্যে একজন ছিলেন মুসাব্বির। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান জানান, অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ, র্যাব ও ডিবিসহ একাধিক সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক বিরোধ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে। পুলিশ আরো সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। তদন্তে অগ্রগতির আশাও ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য প্রযুক্তিসহ মেন্যুয়াল পদ্ধতিরও সাহায়তা নেয়া হচ্ছে। বিশ্লেষণ করা হচ্ছে তার মোবাইলে আসা-যাওয়া কললিস্ট, মেসেজ। আহত আবু সুফিয়ানের বক্তব্য পাওয়া গেলে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। আশা করা হচ্ছে খুব শিগগিরই ভালো কোনো রেজাল্ট পাওয়া যাবে।
রিপোর্টারের নাম 
























