ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি জেলে আহত, টেকনাফ সীমান্তে উত্তেজনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদে মাছ ধরার সময় আলমগীর (৩১) নামের এই জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনার পর শুক্রবার সকালেও মিয়ানমার অংশে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে, যা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

হোয়াইক্যংয়ের বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর তার এক সহযোগীকে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নাফ নদের মধ্যভাগে ‘বিলাসীর দ্বীপ’ সংলগ্ন জলসীমায় মাছ ও কাঁকড়া শিকারে গিয়েছিলেন। হঠাৎ মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি তার বাঁ হাতে লাগে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

উখিয়ার ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকালেও মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে এবং সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আহত আলমগীরের ভাই ইউনুছ জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার সঙ্গীর দ্রুত সহায়তায় আলমগীরকে উদ্ধার করে আনা হয়।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত ও গোলাগুলি বেড়েছে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরএসও। নাফ নদে জেগে ওঠা তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর শান্ত থাকার পর নতুন করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সীমান্তের প্রায় আট হাজার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। ঝুঁকিতে পড়েছেন নাফ নদে মাছ ধরা হাজারো জেলে।

হোয়াইক্যংয়ের উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদ বলেন, “আজ সকালেও বেশ কয়েকটি বড় ধরনের গোলার বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। গতকাল একজন জেলে আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এখানকার মানুষ খুব ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”

টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, স্থানীয়রা সকালেও মিয়ানমার সীমান্তে গোলার শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে কার গুলিতে ওই জেলে আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, “সকাল থেকে আমার এলাকায় সীমান্তের ওপারে গোলার বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় লোকজনের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। তবে সীমান্তে আমাদের বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে।” টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে রিকশাচালক আহত, তদন্তে পুলিশ

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশি জেলে আহত, টেকনাফ সীমান্তে উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০২:৫৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে এক বাংলাদেশি জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নাফ নদে মাছ ধরার সময় আলমগীর (৩১) নামের এই জেলে গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনার পর শুক্রবার সকালেও মিয়ানমার অংশে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে, যা সীমান্ত এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

হোয়াইক্যংয়ের বালুখালী গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর তার এক সহযোগীকে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে নাফ নদের মধ্যভাগে ‘বিলাসীর দ্বীপ’ সংলগ্ন জলসীমায় মাছ ও কাঁকড়া শিকারে গিয়েছিলেন। হঠাৎ মিয়ানমার দিক থেকে ছোড়া একটি গুলি তার বাঁ হাতে লাগে। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালংয়ের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

উখিয়ার ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুক্রবার সকালেও মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে এবং সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। বিজিবি সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আহত আলমগীরের ভাই ইউনুছ জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার সঙ্গীর দ্রুত সহায়তায় আলমগীরকে উদ্ধার করে আনা হয়।

সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে নতুন করে সংঘাত ও গোলাগুলি বেড়েছে। পাশাপাশি আরাকান আর্মির সঙ্গে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়েছে আরএসও। নাফ নদে জেগে ওঠা তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া, বিলাসী দ্বীপ ও হসের দিয়া অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ হয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর শান্ত থাকার পর নতুন করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সীমান্তের প্রায় আট হাজার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। ঝুঁকিতে পড়েছেন নাফ নদে মাছ ধরা হাজারো জেলে।

হোয়াইক্যংয়ের উত্তর পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদ বলেন, “আজ সকালেও বেশ কয়েকটি বড় ধরনের গোলার বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। গতকাল একজন জেলে আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে এখানকার মানুষ খুব ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।”

টেকনাফের হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, স্থানীয়রা সকালেও মিয়ানমার সীমান্তে গোলার শব্দ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে কার গুলিতে ওই জেলে আহত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, “সকাল থেকে আমার এলাকায় সীমান্তের ওপারে গোলার বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে। একজন জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় লোকজনের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। তবে সীমান্তে আমাদের বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে।” টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, হোয়াইক্যং সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে এবং গুলিবিদ্ধ জেলের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।