বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশে ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দিচ্ছে এবং সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে। বুধবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘জাগরণ ডট কম’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন। শেখ হাসিনা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়মুক্তির সাথে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছেন, যার ফলে অমুসলিমদের ওপর বর্ণনাতীত নৃশংসতা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দুদের ওপর হামলাকে তিনি ‘ভয়াবহ ও লজ্জাজনক’ অভিহিত করে বলেন, ইউনূস সরকার ধর্মের নামে দেশকে বিভক্ত করছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলার ক্রমবর্ধমান ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গত ২০ দিনে অন্তত ছয়জন হিন্দু পুরুষকে পিটিয়ে বা গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বিশেষ করে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে টেনে বের করে গাছে বেঁধে পুড়িয়ে মারার পৈশাচিক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন যে, হিন্দু নির্যাতনের যে চিত্র গণমাধ্যমে আসছে, প্রকৃত পরিস্থিতি তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়াবহ। তাঁর মতে, একটি অনির্বাচিত ও জনভিত্তিহীন সরকারের কারণে সাধারণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান প্রশাসন ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় মিশনে হামলাকারীদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, কয়েক দশকের গড়ে ওঠা দুই দেশের কৌশলগত ও বিশ্বস্ত সম্পর্ক কোনো অন্তর্বর্তী সরকারের কারণে দুর্বল হবে না। তিনি ভারতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যকার রাজনৈতিক ও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও অস্থিরতা বাড়ছে। উগ্রবাদী নেতা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























