দেশের অর্থনীতিতে বছরজুড়ে মন্দার আবহ থাকলেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, সদ্য বিদায়ি বছরে বৈধ পথে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ। তবে এই রেকর্ড আয়ের আড়ালে জনশক্তি রপ্তানি খাতের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত এক বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনবল রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে, যা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে প্রায় ১০ লাখ ১১ হাজার কর্মী বিদেশে গেলেও এর ৯৫ শতাংশই ছিল মাত্র পাঁচটি দেশ— সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) নির্ভর। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, ওমান ও বাহরাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলো বর্তমানে প্রায় বন্ধ। বিশেষ করে ওমানে ২০২৩ সালে যেখানে সোয়া লাখ কর্মী গিয়েছিল, ২০২৪ সালে সেখানে গেছে মাত্র ৩৫৮ জন। আমিরাতেও কর্মী নিয়োগ কমে অর্ধেক হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুটিকয়েক দেশের ওপর এই অতি-নির্ভরতা এবং অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো উন্নত বাজারে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও ভাষা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবে বাংলাদেশ সেই সুযোগ নিতে পারছে না।
জনশক্তি রপ্তানি খাতের এই ধসের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সীমাহীন দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, ভুয়া নিয়োগপত্র এবং অদক্ষ জনবল পাঠানোর ফলে বিদেশে গিয়ে অনেক কর্মী কাজ পাচ্ছেন না, যা আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। এছাড়া নারী অভিবাসীর সংখ্যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৪৭ শতাংশ কমে গেছে। প্রবাসী কল্যাণ খাতে বাজেট বরাদ্দ কমে যাওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবকে এই খাতের স্থবিরতার জন্য দায়ী করেছেন রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) গবেষকরা। শ্রম কূটনীতি জোরদার এবং দক্ষ জনবল তৈরি করা না গেলে অর্থনীতির এই প্রাণশক্তি অচিরেই বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























