ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

তীব্র শীতে সাতক্ষীরায় বিপর্যস্ত জনজীবন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা উত্তরের হিমেল হাওয়া আর হাড়কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে এই অঞ্চলে সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোদ না ওঠা ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির জনজীবন

সোমবার সকাল থেকেই জেলাজুড়ে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে। গত ৪৮ ঘণ্টা সূর্যের উত্তাপ না থাকায় ভূপৃষ্ঠ হিমশীতল হয়ে পড়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের গায়ে ভারি গরম কাপড় দেখা যাচ্ছে।

শহরের মোড়ে মোড়ে এবং গ্রামাঞ্চলে ছিন্নমূল মানুষরা খড়কুটো, কাঠ ও আবর্জনা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

তীব্র শীত উপেক্ষা করেও অনেক শ্রমজীবী জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হচ্ছেন। সাতক্ষীরা শহরের পাকাপুল মোড়ে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন,“গত দুই দিন রোদ নেই, তার ওপর কনকনে বাতাস। হাত-পা জমে যাচ্ছে, তবুও কাজে বের হতে হয়েছে। কাজ না করলে পেটে ভাত জুটবে না।”

সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার ভ্যান চালক জসিম উদ্দীন বলেন,“রোদ না ওঠায় যাত্রীর সংখ্যাও কমে গেছে। তীব্র শীতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।”

শীতজনিত রোগ বাড়ছে

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও সর্দি-জ্বরে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ হাসান বলেন, “এই আবহাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহার এবং কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর ও রাতের ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমলে শীতবস্ত্র বিতরণ বাড়ানো হবে।

অব্যাহত কমে চলা তাপমাত্রা

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানিয়েছেন, জেলায় তাপমাত্রা ক্রমাগত কমছে। সোমবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এর আগে রবিবার তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি, আর ৩১ ডিসেম্বর তা নেমেছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে।

ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারছে না। পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে রিকশাচালক আহত, তদন্তে পুলিশ

তীব্র শীতে সাতক্ষীরায় বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময় : ০৪:০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা উত্তরের হিমেল হাওয়া আর হাড়কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে এই অঞ্চলে সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোদ না ওঠা ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

হাড়কাঁপানো শীতে স্থবির জনজীবন

সোমবার সকাল থেকেই জেলাজুড়ে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে। গত ৪৮ ঘণ্টা সূর্যের উত্তাপ না থাকায় ভূপৃষ্ঠ হিমশীতল হয়ে পড়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের গায়ে ভারি গরম কাপড় দেখা যাচ্ছে।

শহরের মোড়ে মোড়ে এবং গ্রামাঞ্চলে ছিন্নমূল মানুষরা খড়কুটো, কাঠ ও আবর্জনা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

তীব্র শীত উপেক্ষা করেও অনেক শ্রমজীবী জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হচ্ছেন। সাতক্ষীরা শহরের পাকাপুল মোড়ে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন,“গত দুই দিন রোদ নেই, তার ওপর কনকনে বাতাস। হাত-পা জমে যাচ্ছে, তবুও কাজে বের হতে হয়েছে। কাজ না করলে পেটে ভাত জুটবে না।”

সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার ভ্যান চালক জসিম উদ্দীন বলেন,“রোদ না ওঠায় যাত্রীর সংখ্যাও কমে গেছে। তীব্র শীতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।”

শীতজনিত রোগ বাড়ছে

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও সর্দি-জ্বরে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ হাসান বলেন, “এই আবহাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহার এবং কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর ও রাতের ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”

জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমলে শীতবস্ত্র বিতরণ বাড়ানো হবে।

অব্যাহত কমে চলা তাপমাত্রা

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানিয়েছেন, জেলায় তাপমাত্রা ক্রমাগত কমছে। সোমবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এর আগে রবিবার তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি, আর ৩১ ডিসেম্বর তা নেমেছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে।

ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারছে না। পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।