ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

রাউজানে আরও এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও দুর্বৃত্তের গুলিতে জানে আলম সিকদার (৫০) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট এলাকার সিকদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

নিহত জানে আলম স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। 

স্থানীয় লোকজন জানান, মুখোশ পরা তিন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে জানে আলমের বাড়ির সামনে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। তার বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় জানে আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বাবুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত জানে আলম সিকদার বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে একই ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। পুলিশের ভূমিকাও আমরা বুঝতে পারছি না।’

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্বৃত্তের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’

গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এর আগে যুবদলের কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তারও আগে গত বছরের ৭ অক্টোবর খুন হন বিএনপির কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম (৫২)। রাউজানের খামারবাড়ি থেকে ফেরার পথে হাটহাজারীর মদুনাঘাটে চলন্ত গাড়িতে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারীরা। এ ঘটনায়ও অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জানে আলম, আলমগীর ও আবদুল হাকিম ছাড়াও রাউজানে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিরা হলেন– বিএনপির কমর উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম, মানিক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ সেলিম, দিদারুল আলম ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (বিএনপির স্থানীয় রাজনীতির বিরোধ)। বাকি চার জন আওয়ামী লীগের— আবদুল মান্নান, মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, আবু তাহের ও মুহাম্মদ হাসান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় সন্ত্রাসীদের লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে রিকশাচালক আহত, তদন্তে পুলিশ

রাউজানে আরও এক বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা

আপডেট সময় : ১১:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজানে আবারও দুর্বৃত্তের গুলিতে জানে আলম সিকদার (৫০) নামে এক বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট এলাকার সিকদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

নিহত জানে আলম স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন। 

স্থানীয় লোকজন জানান, মুখোশ পরা তিন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে জানে আলমের বাড়ির সামনে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এরপর তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। তার বুকে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় জানে আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল এভারকেয়ারে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বাবুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত জানে আলম সিকদার বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। এর আগে একই ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি ছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না। পুলিশের ভূমিকাও আমরা বুঝতে পারছি না।’

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুর্বৃত্তের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আমরা ঘটনাস্থলে আছি। জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’

গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাউজানে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। এর আগে যুবদলের কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তারও আগে গত বছরের ৭ অক্টোবর খুন হন বিএনপির কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিম (৫২)। রাউজানের খামারবাড়ি থেকে ফেরার পথে হাটহাজারীর মদুনাঘাটে চলন্ত গাড়িতে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারীরা। এ ঘটনায়ও অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

জানে আলম, আলমগীর ও আবদুল হাকিম ছাড়াও রাউজানে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিরা হলেন– বিএনপির কমর উদ্দিন, মো. ইব্রাহিম, মানিক আবদুল্লাহ, মুহাম্মদ সেলিম, দিদারুল আলম ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (বিএনপির স্থানীয় রাজনীতির বিরোধ)। বাকি চার জন আওয়ামী লীগের— আবদুল মান্নান, মুহাম্মদ ইউসুফ মিয়া, আবু তাহের ও মুহাম্মদ হাসান।