ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও শিশুসন্তানের মৃত্যু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার সোনাতলায় ট্রেনে কেটে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুল ছাত্রসহ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার ছয়ঘড়িয়া পাড়ায় রেল লাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে।’

মৃতরা হলেনÑ বগুড়ার শিবগঞ্জের বরিয়াহাট কুকি কালিদাস গ্রামের গার্মেন্টসকর্মী রবিউল ইসলামের স্ত্রী রুজিনা আকতার রনি (৩৩) এবং তার ছেলে পার্শ্ববর্তী সোনাতলা উপজেলায় টিএম মেমোরিয়াল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত (১০)।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রবিউল ইসলাম ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। তার স্ত্রী রুজিনা আকতার রনি প্রতিদিন বাড়ি থেকে ছেলে ইয়াসিন আরাফাতকে পাশের সোনাতলার টিএম মেমোরিয়াল স্কুলে নিয়ে যেতেন।

রুজিনার মামা আবু সাঈদ জানান, তার ভাগনি প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাতলার ছয়ঘড়িয়া পাড়ায় রেললাইন পার হচ্ছিলেন। ঘনকুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এ সময় সান্তাহার ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ এক্সপ্রেস ট্রেন ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। ওই ট্রেনে কাটা পড়ে মা রুজিনা ও ছেলে স্কুলছাত্র ইয়াছিনের মৃত্যু হয়। তারা আত্মহত্যা করেননি।’

তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পদ্মরাগ ট্রেন অতিক্রম করার সময় মা ও ছেলে রেললাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। চিৎকার করলেও তারা রেললাইন থেকে সরে যাননি। এ সময় ট্রেন এলে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়।

সোনাতলা থানার এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছেলেকে নিয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন।

বগুড়ার রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল জাহেদ জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে ওই মা ও ছেলে আত্মহত্যা করেছেন। তারপরও তদন্ত করলে এটি আত্মহত্যা না দুর্ঘটনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। এ ব্যাপারে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

এদিকে দুদিন আগে শুক্রবার বিকালে পুলিশ সোনাতলার জোড়গাছা ইউনিয়নের শিচারপাড়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে গৃহবধূ চায়না বেগম (৩৫) এবং তার সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে খাদিজা খাতুনের (১৪) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে গৃহবধূর বাবা তারাজুল ইসলাম সোনাতলা থানায় জামাই কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। কামরুজ্জামান ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও শিচারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি। তিনি রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে পালিয়ে রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

বগুড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে মা ও শিশুসন্তানের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০৪:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বগুড়ার সোনাতলায় ট্রেনে কেটে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুল ছাত্রসহ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার ছয়ঘড়িয়া পাড়ায় রেল লাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে।’

মৃতরা হলেনÑ বগুড়ার শিবগঞ্জের বরিয়াহাট কুকি কালিদাস গ্রামের গার্মেন্টসকর্মী রবিউল ইসলামের স্ত্রী রুজিনা আকতার রনি (৩৩) এবং তার ছেলে পার্শ্ববর্তী সোনাতলা উপজেলায় টিএম মেমোরিয়াল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত (১০)।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রবিউল ইসলাম ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করেন। তার স্ত্রী রুজিনা আকতার রনি প্রতিদিন বাড়ি থেকে ছেলে ইয়াসিন আরাফাতকে পাশের সোনাতলার টিএম মেমোরিয়াল স্কুলে নিয়ে যেতেন।

রুজিনার মামা আবু সাঈদ জানান, তার ভাগনি প্রতিদিনের মতো রবিবার সকালে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোনাতলার ছয়ঘড়িয়া পাড়ায় রেললাইন পার হচ্ছিলেন। ঘনকুয়াশায় কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এ সময় সান্তাহার ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ এক্সপ্রেস ট্রেন ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। ওই ট্রেনে কাটা পড়ে মা রুজিনা ও ছেলে স্কুলছাত্র ইয়াছিনের মৃত্যু হয়। তারা আত্মহত্যা করেননি।’

তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, পদ্মরাগ ট্রেন অতিক্রম করার সময় মা ও ছেলে রেললাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। চিৎকার করলেও তারা রেললাইন থেকে সরে যাননি। এ সময় ট্রেন এলে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু হয়।

সোনাতলা থানার এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, ছেলেকে নিয়ে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন।

বগুড়ার রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল জাহেদ জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুসারে ওই মা ও ছেলে আত্মহত্যা করেছেন। তারপরও তদন্ত করলে এটি আত্মহত্যা না দুর্ঘটনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছিল। এ ব্যাপারে সান্তাহার রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

এদিকে দুদিন আগে শুক্রবার বিকালে পুলিশ সোনাতলার জোড়গাছা ইউনিয়নের শিচারপাড়া গ্রামে নিজ ঘর থেকে গৃহবধূ চায়না বেগম (৩৫) এবং তার সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে খাদিজা খাতুনের (১৪) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে গৃহবধূর বাবা তারাজুল ইসলাম সোনাতলা থানায় জামাই কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন। কামরুজ্জামান ওই ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও শিচারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি। তিনি রাজনৈতিক মামলা মাথায় নিয়ে পালিয়ে রয়েছেন।