মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় নিজ বাড়িতে ঢুকে দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা লন্ডনপ্রবাসী এক ছাত্রলীগ নেতার বাবা-চাচা। এর মধ্যে একজন কুয়েতপ্রবাসী এবং অন্যজন কৃষক। এ ঘটনায় আরেকজন গুরুতর আহত হন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দক্ষিণভাগ উত্তর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল গ্রামে ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকার বাড়িতে হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশ স্থানীয় লোকজন বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
নিহতরা হলেন—বিওসি কেছরিগুল গ্রামের মৃত নিমার আলীর বড় ছেলে কুয়েতপ্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) এবং তার ছোট ভাই কৃষক আব্দুল কাইয়ুম (৪৮)। নিহত জামাল উদ্দিন মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান কবিরের বাবা। তিনি মাত্র ছয় মাস আগে কুয়েত থেকে দেশে ফিরেছিলেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হন একই গ্রামের মৃত আব্দুস সবুরের ছেলে মো. জমির উদ্দিন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় মাগরিবের আজানের কিছুক্ষণ আগে দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের কুপিয়ে জখম করলে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে বা কারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর পেয়ে বড়লেখা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কে বা কারা তাদের হত্যা করেছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। তবে তাদের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় রাজনৈতিক বা পূর্বশক্রতার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছি।’
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান খান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।’
মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে আছি। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।’
রিপোর্টারের নাম 
























