ময়মনসিংহের গৌরীপুরে একটি মাজার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। মাজার ভাঙচুরের পর ভেতরে মলমূত্র নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাতের কোনো একসময় টেঙ্গাপাড়া গ্রামে কয়েক শ বছরের পুরাতন শাহজাহান উদ্দিন (র) আউলিয়া মাজারে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে ভক্তরা মাজার ভাঙচুরের বিষয়টি দেখতে পান। মূল অংশের বাউন্ডারি ভেঙে পড়ে আছে। এছাড়া মাজারের বেশ কিছু জায়গায় মানুষের মলমূত্র ও গোবর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে মাজারটিতে আসতে থাকেন উৎসুক জনতা। তারা ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, এই মাজার কত বছর আগের, তা বলা মুশকিল। এখানে প্রতিদিনই ভক্তরা এসে যে যার মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে চলে যান। এ অবস্থায় মাজার ভাঙচুর কোনোভাবেই মানা যায় না।
এলাকার ইউপি সদস্য মো. জুয়েল মিয়া জানান, খবর পেয়ে তিনি এসে দেখতে পেয়েছেন মাজারের মূল অংশের বাউন্ডারি ভাঙচুর করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতের কোনো একসময় কারা এ কাণ্ড করেছে তা বলা যাচ্ছে না। ভাঙচুরের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
মাজারের খাদেম মো. সাইদুর রহমান (৭০) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে এই মাজারে আছি। কখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বাপ-দাদার কাছে জানতে পেরেছি মুঘল সম্রাটের আমলে এই মাজার এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্ত এখানে আসেন। কারা ভাঙচুর করেছে তা আমরা দেখিনি এবং জানি না।
গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান জনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মাজারের একাংশের কিছু অংশ ভাঙচুর করা হয়েছে। পলিথিনে মলমূত্র ভরে ভেতরে নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। ওই মাজারে গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে কোনও ওরস হয় না। কারা কেন ভেঙেছে তা জানার চেষ্টা করছি আমরা। তবে এ ঘটনায় কেউ এখন পর্যন্ত অভিযোগ করেনি।
রিপোর্টারের নাম 
























