ঢাকা ০২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে সর্বদলীয় সমাবেশ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনার প্রতিবাদে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন বক্তারা। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের নিন্দা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয় সমাবেশ থেকে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাদির ওপর হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক পরিসরের জন্য গুরুতর হুমকি। এমন ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

সমাবেশে রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান প্রমুখ।

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার।

সংহতি বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বারবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। কিন্তু আপনার সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ফ্যাসিবাদের অস্ত্রধারী দোসরদের একজনকেও গ্রেফতার করা যায়নি “

তিনি বলেন, “হাদির ওপর হামলার দুই-তিন দিন আগেই তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তার জীবনের নিরাপত্তা নেই। এত বড় সতর্কতার পরও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী ব্যবস্থা নিয়েছে—সে প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে। এটি স্পষ্ট ইন্টেলিজেন্স ব্যর্থতা।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কীভাবে এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা হয়? হাদির ওপর হামলা একটি পরিকল্পিত প্যাকেজের অংশ।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। যে নির্বাচন কমিশন এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেছে, তাদের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।”

তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি নৈতিক। ৫ আগস্টের পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “একসময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধীদের দমন করতে দক্ষতা দেখিয়েছে। অথচ এখন তারা খুনিদের ধরতে পারছে না—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।”

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সংযম দেখিয়েছিলাম বলেই আজ তারা সাহস পাচ্ছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময়। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আর ছাড় দেওয়া হবে না।”

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। এটি নির্বাচন ভণ্ডুল করার গভীর ষড়যন্ত্র।”

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, “আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালের পাশাপাশি হাদির ওপর হামলায় জড়িতদের এবং আশ্রয়দাতাদের ভারত থেকে প্রত্যর্পণ করতে হবে। তা না হলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে “

তিনি আরও বলেন, “সরকার ব্যর্থ হলে দেশে কর্মরত ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হবে।”

সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম, আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জনতার দলের মহাসচিব আজম খান, শরিফ ওসমান হাদীর পরিবারের পক্ষে শহীদুল ইসলাম এবং ইনকিলাব মঞ্চের ফাতিমা তাসনিম জুমা বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদে অসংগতি: একই বইয়ের ভিড়ে উপেক্ষিত বিশ্বসেরারা

হাদিকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে সর্বদলীয় সমাবেশ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

আপডেট সময় : ১০:০৬:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানোর ঘটনার প্রতিবাদে সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন বক্তারা। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের নিন্দা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তোলা হয় সমাবেশ থেকে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, হাদির ওপর হামলা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক পরিসরের জন্য গুরুতর হুমকি। এমন ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তারা।

সমাবেশে রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান প্রমুখ।

আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার।

সংহতি বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বারবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। কিন্তু আপনার সরকার ব্যর্থ হয়েছে। ফ্যাসিবাদের অস্ত্রধারী দোসরদের একজনকেও গ্রেফতার করা যায়নি “

তিনি বলেন, “হাদির ওপর হামলার দুই-তিন দিন আগেই তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, তার জীবনের নিরাপত্তা নেই। এত বড় সতর্কতার পরও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী ব্যবস্থা নিয়েছে—সে প্রশ্নের জবাব সরকারকে দিতে হবে। এটি স্পষ্ট ইন্টেলিজেন্স ব্যর্থতা।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কীভাবে এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলা হয়? হাদির ওপর হামলা একটি পরিকল্পিত প্যাকেজের অংশ।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। যে নির্বাচন কমিশন এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেছে, তাদের দায়িত্বে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।”

তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি নৈতিক। ৫ আগস্টের পরও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “একসময় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধীদের দমন করতে দক্ষতা দেখিয়েছে। অথচ এখন তারা খুনিদের ধরতে পারছে না—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।”

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সংযম দেখিয়েছিলাম বলেই আজ তারা সাহস পাচ্ছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময়। রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আর ছাড় দেওয়া হবে না।”

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে গণঅভ্যুত্থানের শক্তিগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। এটি নির্বাচন ভণ্ডুল করার গভীর ষড়যন্ত্র।”

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, “আগামী ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামালের পাশাপাশি হাদির ওপর হামলায় জড়িতদের এবং আশ্রয়দাতাদের ভারত থেকে প্রত্যর্পণ করতে হবে। তা না হলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে “

তিনি আরও বলেন, “সরকার ব্যর্থ হলে দেশে কর্মরত ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হবে।”

সমাবেশে এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম, আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জনতার দলের মহাসচিব আজম খান, শরিফ ওসমান হাদীর পরিবারের পক্ষে শহীদুল ইসলাম এবং ইনকিলাব মঞ্চের ফাতিমা তাসনিম জুমা বক্তব্য রাখেন।