মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সার্বিক ঝুঁকি পর্যালোচনা করে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ইন্তেখাব চৌধুরী এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে ইতোমধ্যে জারীকৃত সব আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক নির্দেশনা বাস্তবায়নে র্যাব ফোর্সেস কাজ করছে। দিবসটি ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু ও আশপাশের এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন থাকবে।
র্যাব জানায়, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর আশপাশে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি ইউনিফর্ম টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে র্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে নজরদারি জোরদার করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের স্পেশাল ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গভবন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনসহ সারাদেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাবের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও টহল অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে কেউ যেন ব্যাগ, বস্তা বা কার্টুনজাতীয় কোনো সামগ্রী বহন বা সংরক্ষণ করতে না পারে—সে লক্ষ্যে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও সংগঠনের কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং তারা যেন কোনো অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে—সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
র্যাব আরও জানায়, সারাদেশে ভিভিআইপি ও ভিআইপি ব্যক্তিবর্গ, বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চলাচলস্থল এবং জনসমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে—এমন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শহরের প্রবেশ ও বাহির পথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে সন্ত্রাসী বা অপরাধীরা যেন বস্তি, হোটেল, গেস্ট হাউজ বা রেস্ট হাউজে অবস্থান নিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে না পারে—সে লক্ষ্যে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সব বস্তি, আবাসিক এলাকা ও চিহ্নিত ক্রাইম জোনে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড টিমকে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে রাখা হয়েছে। যেকোনো নাশকতা, বোমাবাজি বা সহিংস ঘটনা প্রতিরোধে আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















