মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:৫০ অপরাহ্ন | ৩রা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ফুটবল মাঠে শেষ হলো ৩০ বছরের স্প্যানিশ স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগুয়েলের জীবনের গল্প

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৩৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

ফুটবল মাঠে তখনও চলছিল জয়ের লড়াই। স্কোরবোর্ডে ২-২, ম্যাচের নির্ধারিত সময়ও পেরিয়ে গেছে। দুই দলই খুঁজছিল শেষ মুহূর্তের সেই কাঙ্ক্ষিত গোল, যা বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। কিন্তু কেউ জানত না, আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই মাঠে নেমে আসবে এমন এক শোক, যার কাছে হার মানবে সব প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সব উত্তেজনা, সব গোলের হিসাব। যে মাঠে গোল করার স্বপ্ন নিয়ে ছুটছিলেন, সেখান থেকেই আর জীবিত ফেরা হলো না স্প্যানিশ স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগুয়েলের!

মাত্র ৩০ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব তেনেরিফের এই ফুটবলার। প্রতিপক্ষের গোলকিপারের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তেনেরিফ।

সোমবার রাতে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে ঘটে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। ম্যাচের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিট। তখন দুই দলের স্কোর ২-২। দূর থেকে আসা একটি পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে ছুটছিলেন মিগুয়েল। অন্যদিকে গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা সামনে এগিয়ে এসেছিলেন আন্দোরার গোলকিপার হেসুস ওউনো। বলের দখল নিতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ঘটে ভয়াবহ সংঘর্ষ। ওউনোর হাঁটু সজোরে আঘাত করে মিগুয়েলের মাথা ও বুকে।

মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মিগুয়েল। এরপর আর উঠে দাঁড়ানো হয়নি তার! মাঠের দুই দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের ডাকতে সংকেত দেন। কয়েক মিনিট ধরে মাঠেই চলে জরুরি চিকিৎসা। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে, শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তেনেরিফের নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে কান্দেলারিয়া হাসপাতালে। মিগুয়েলের দুর্ঘটনার পর ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ওউনো।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় মিগুয়েলের। জরুরি চিকিৎসায় প্যারামেডিকসরা তার হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেও শঙ্কা কাটেনি। গতকাল তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছিল। সবাই হয়তো অপেক্ষায় ছিলেন অলৌকিক কিছু ঘটার। কিন্তু সব অপেক্ষা আর আশাকে নিঃশেষ করে মঙ্গলবার আসে মৃত্যুর সংবাদ!

তেনেরিফের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ফুটবলারটির মৃত্যুর খবর জানানো হয় গভীর শোকের সঙ্গে। ক্লাবটি লিখেছে, ‘গভীর শোক আর গলায় কান্না নিয়ে, কিছুতেই বিশ্বাস করতে না পেরে আমরা জানাচ্ছি, আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮টায় হেসুস দে মিগেল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো শব্দ নেই।’

শুধু একজন ফুটবলারকে হারানোর শোক নয়, এই মৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার, স্বজন, সতীর্থ ও অসংখ্য সমর্থক। তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তেনেরিফ বলেছে, এই কঠিন সময়ে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে রয়েছে ক্লাব। একই সঙ্গে মিগুয়েলের পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

মিগুয়েলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো স্প্যানিশ ফুটবলে। রিয়াল মাদ্রিদসহ অন্যান্য ক্লাবও শোক প্রকাশ করেছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে নববিতে নারীদের ধর্মীয় আলোচনা শোনার বিশেষ ব্যবস্থা

03 November 2026

ধানমন্ডিতে বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ফুটবল মাঠে শেষ হলো ৩০ বছরের স্প্যানিশ স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগুয়েলের জীবনের গল্প

হালনাগাদ সময় : ১০:৩৫:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

ফুটবল মাঠে তখনও চলছিল জয়ের লড়াই। স্কোরবোর্ডে ২-২, ম্যাচের নির্ধারিত সময়ও পেরিয়ে গেছে। দুই দলই খুঁজছিল শেষ মুহূর্তের সেই কাঙ্ক্ষিত গোল, যা বদলে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। কিন্তু কেউ জানত না, আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেই মাঠে নেমে আসবে এমন এক শোক, যার কাছে হার মানবে সব প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সব উত্তেজনা, সব গোলের হিসাব। যে মাঠে গোল করার স্বপ্ন নিয়ে ছুটছিলেন, সেখান থেকেই আর জীবিত ফেরা হলো না স্প্যানিশ স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগুয়েলের!

মাত্র ৩০ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেলেন স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব তেনেরিফের এই ফুটবলার। প্রতিপক্ষের গোলকিপারের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তেনেরিফ।

সোমবার রাতে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে ঘটে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। ম্যাচের যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিট। তখন দুই দলের স্কোর ২-২। দূর থেকে আসা একটি পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে ছুটছিলেন মিগুয়েল। অন্যদিকে গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা সামনে এগিয়ে এসেছিলেন আন্দোরার গোলকিপার হেসুস ওউনো। বলের দখল নিতে গিয়ে দুজনের মধ্যে ঘটে ভয়াবহ সংঘর্ষ। ওউনোর হাঁটু সজোরে আঘাত করে মিগুয়েলের মাথা ও বুকে।

মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মিগুয়েল। এরপর আর উঠে দাঁড়ানো হয়নি তার! মাঠের দুই দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের ডাকতে সংকেত দেন। কয়েক মিনিট ধরে মাঠেই চলে জরুরি চিকিৎসা। কিন্তু পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে, শেষ পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তেনেরিফের নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে কান্দেলারিয়া হাসপাতালে। মিগুয়েলের দুর্ঘটনার পর ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ওউনো।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় মিগুয়েলের। জরুরি চিকিৎসায় প্যারামেডিকসরা তার হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেও শঙ্কা কাটেনি। গতকাল তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছিল। সবাই হয়তো অপেক্ষায় ছিলেন অলৌকিক কিছু ঘটার। কিন্তু সব অপেক্ষা আর আশাকে নিঃশেষ করে মঙ্গলবার আসে মৃত্যুর সংবাদ!

তেনেরিফের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে ফুটবলারটির মৃত্যুর খবর জানানো হয় গভীর শোকের সঙ্গে। ক্লাবটি লিখেছে, ‘গভীর শোক আর গলায় কান্না নিয়ে, কিছুতেই বিশ্বাস করতে না পেরে আমরা জানাচ্ছি, আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৮টায় হেসুস দে মিগেল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো শব্দ নেই।’

শুধু একজন ফুটবলারকে হারানোর শোক নয়, এই মৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার, স্বজন, সতীর্থ ও অসংখ্য সমর্থক। তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তেনেরিফ বলেছে, এই কঠিন সময়ে শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে রয়েছে ক্লাব। একই সঙ্গে মিগুয়েলের পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

মিগুয়েলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো স্প্যানিশ ফুটবলে। রিয়াল মাদ্রিদসহ অন্যান্য ক্লাবও শোক প্রকাশ করেছে।

Share this news as a Photo Card