মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০২:২১ পূর্বাহ্ন | ৫ই নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ২০শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

রাজনৈতিক দল নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক: টিআইবি

  • হালনাগাদ সময় : ১০:১৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গণমাধ্যমে যে বিবৃতি প্রদান করেছেন, তা বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে টিআইবি।

আরপিও ১৯৭২ এর নামমাত্র প্রতিপালনের মাধ্যমে নারীদের স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে দলের সর্বস্তরে নারীর অন্তর্ভুক্তি হিসেবে দাবি করা শুভঙ্করের ফাঁকি বলছে সংস্থাটি। বাস্তবতা অস্বীকার করে দলটির পক্ষ থেকে এভাবে গবেষণা তথ্যকে ‘অসত্য’ আখ্যায়িত করে বিবৃতি প্রদানের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে টিআইবি। তবে, জামায়াতে ইসলামী গবেষণা প্রতিবেদনটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করায় টিআইবির পক্ষ থেকে তাদের সাধুবাদ জানানো হচ্ছে।

টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে যে, আরপিও, ১৯৭২ এর ধারা ৯০খ(১)(খ)(আ) অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে সকল পর্যায়ের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারীদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব বিশ্লেষণ করলে আইনের এই ধারা পরিপালনে ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটি বলতে কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী কমিটি বা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ বা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদকে বোঝানো হয়েছে। সকল দলের ক্ষেত্রে একই ধরনের কমিটির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৩-২৫ সময়কালে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই। যা আরপিওর সংশ্লিষ্ট বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে দলের প্রতিটি কমিটিতে নারী সদস্য থাকতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, তাদের দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া, দলটির রুকনদের (সদস্য) মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। এই গবেষণায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটি অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী পরিষদ বা কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দলের জাতীয় বা কেন্দ্রীয় কাউন্সিল বা সম্মেলন বা মজলিশে শুরায় কতজন নারী আছে, সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি।

আরপিও, ১৯৭২-এ একটি দলে কতজন নারী সদস্য থাকবে, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বরং নারী কর্মীদের মধ্যে থেকে কমিটিগুলোতে কতজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ফলে সেক্রেটারি জেনারেলের এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্তের উল্লেখ, সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। বাংলাদেশের অন্য সকল রাজনৈতিক দলের সকল স্তরে একটি করে কমিটি থাকে, সেখানে বিভিন্ন হারে নারীদের অন্তর্ভুক্তি লক্ষ করা যায়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রে শুধুমাত্র নারীদের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক কাঠামোর উল্লেখ রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

সাদিক কায়েম ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল করেছিলেন: রাশেদ খাঁন

04 November 2026

বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

রাজনৈতিক দল নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক: টিআইবি

হালনাগাদ সময় : ১০:১৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন সম্পর্কে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গণমাধ্যমে যে বিবৃতি প্রদান করেছেন, তা বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে টিআইবি।

আরপিও ১৯৭২ এর নামমাত্র প্রতিপালনের মাধ্যমে নারীদের স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে দলের সর্বস্তরে নারীর অন্তর্ভুক্তি হিসেবে দাবি করা শুভঙ্করের ফাঁকি বলছে সংস্থাটি। বাস্তবতা অস্বীকার করে দলটির পক্ষ থেকে এভাবে গবেষণা তথ্যকে ‘অসত্য’ আখ্যায়িত করে বিবৃতি প্রদানের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে টিআইবি। তবে, জামায়াতে ইসলামী গবেষণা প্রতিবেদনটি গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করায় টিআইবির পক্ষ থেকে তাদের সাধুবাদ জানানো হচ্ছে।

টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে যে, আরপিও, ১৯৭২ এর ধারা ৯০খ(১)(খ)(আ) অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে সকল পর্যায়ের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারীদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব বিশ্লেষণ করলে আইনের এই ধারা পরিপালনে ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটি বলতে কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী কমিটি বা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ বা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদকে বোঝানো হয়েছে। সকল দলের ক্ষেত্রে একই ধরনের কমিটির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৩-২৫ সময়কালে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই। যা আরপিওর সংশ্লিষ্ট বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে দলের প্রতিটি কমিটিতে নারী সদস্য থাকতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, তাদের দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া, দলটির রুকনদের (সদস্য) মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। এই গবেষণায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটি অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী পরিষদ বা কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দলের জাতীয় বা কেন্দ্রীয় কাউন্সিল বা সম্মেলন বা মজলিশে শুরায় কতজন নারী আছে, সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি।

আরপিও, ১৯৭২-এ একটি দলে কতজন নারী সদস্য থাকবে, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বরং নারী কর্মীদের মধ্যে থেকে কমিটিগুলোতে কতজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ফলে সেক্রেটারি জেনারেলের এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্তের উল্লেখ, সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছু নয়। বাংলাদেশের অন্য সকল রাজনৈতিক দলের সকল স্তরে একটি করে কমিটি থাকে, সেখানে বিভিন্ন হারে নারীদের অন্তর্ভুক্তি লক্ষ করা যায়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রে শুধুমাত্র নারীদের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক কাঠামোর উল্লেখ রয়েছে।

Share this news as a Photo Card