মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১১:০৩ অপরাহ্ন | ৩রা নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১৮ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের টাকা আত্মসাৎ: ৭ আসামির জামিন নামঞ্জুর

  • হালনাগাদ সময় : ১০:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের ১০৪ জন গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ৭ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর ৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, সাবেক পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এস এম নরুজ্জামান, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম ও নুরুল মাসুদ।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে টাকা ফেরত এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। এ সময় তারা আত্মসাৎ হওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকা ফেরতসহ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার গত ৩০ জুলাই ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে আমানত হিসেবে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ অন্যদের যোগসাজশে কৌশলে সাদা স্লিপ দিয়ে তাদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম লাভলু জানান, মামলার ১৩ আসামির মধ্যে ৭ জন আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে গত ২ আগস্ট এ ঘটনায় কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে আমানত জমা রাখতে গিয়ে ১০৪ জন গ্রাহক প্রতারণার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ অন্যদের যোগসাজশে লেটার রাইটার শিহাব গ্রাহকদের সাদা স্লিপ দিয়ে টাকা জমা রাখলেও সেই টাকা ডাকঘরের কোষাগারে জমা হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ জানান, গত ৫ জুলাইয়ের পর তিনি রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যোগদান করেন। এরপর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১০৪ জন গ্রাহকের প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

মসজিদে নববিতে নারীদের ধর্মীয় আলোচনা শোনার বিশেষ ব্যবস্থা

03 November 2026

ধানমন্ডিতে বহুতল আবাসিক ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২ ইউনিট

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের টাকা আত্মসাৎ: ৭ আসামির জামিন নামঞ্জুর

হালনাগাদ সময় : ১০:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের ১০৪ জন গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ৭ আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার অপর ৬ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, সাবেক পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এস এম নরুজ্জামান, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম ও নুরুল মাসুদ।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে টাকা ফেরত এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। এ সময় তারা আত্মসাৎ হওয়া প্রায় দেড় কোটি টাকা ফেরতসহ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে নাছরিন আক্তার গত ৩০ জুলাই ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ের টাকা রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে আমানত হিসেবে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র, লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ অন্যদের যোগসাজশে কৌশলে সাদা স্লিপ দিয়ে তাদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম লাভলু জানান, মামলার ১৩ আসামির মধ্যে ৭ জন আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে গত ২ আগস্ট এ ঘটনায় কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে রাজবাড়ীর সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে আমানত জমা রাখতে গিয়ে ১০৪ জন গ্রাহক প্রতারণার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ অন্যদের যোগসাজশে লেটার রাইটার শিহাব গ্রাহকদের সাদা স্লিপ দিয়ে টাকা জমা রাখলেও সেই টাকা ডাকঘরের কোষাগারে জমা হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যান। পরে ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ জানান, গত ৫ জুলাইয়ের পর তিনি রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যোগদান করেন। এরপর বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ১০৪ জন গ্রাহকের প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য পাওয়া গেছে।

Share this news as a Photo Card