চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজারে জাল দলিল তৈরি করে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার মামলায় মো. সাদেক খান (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রেজাউল করিম রনি রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে জাল দলিল তৈরি করে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নগরের লালখানবাজার মৌজায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত একটি জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে জাল দলিল তৈরি করেন সাদেক খান। জমিটি মূলত টার্নার মরিসান কোম্পানি লিমিটেডের নামে নথিভুক্ত ছিল। পরে তা অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। সাদেক খান ১৯৬৮ সালের ২২ মে তারিখের ২৬৩১ নম্বর দলিলের মাধ্যমে জমিটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। এ দাবির পক্ষে দলিলের ফটোকপি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অর্পিত সম্পত্তি শাখা এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন তিনি।
তবে চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড যাচাই করে দুদক জানতে পারে, ২৬৩১ নম্বর দলিলটি লালখানবাজারের ওই জমিসংক্রান্ত নয়। এটি আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়ন হাই স্কুলের সেক্রেটারির নামে করা একটি দানপত্র দলিল। লালখানবাজার মৌজার নির্ধারিত সূচিপত্রেও ওই দলিলের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় সাদেক খানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা করা হয়। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় দুদক। পরে ২০২৫ সালের ১৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।


























