জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার সামর্থ্য সরকারের ক্রমান্বয়ে কমছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আড়াই মাসেই এর অর্ধেক ব্যয় হয়ে গেছে। এ অবস্থায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে সরকারকে ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
এলপিজির দাম বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জাহেদ উর রহমান বলেন, রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে জনগণের ওপর কতটা চাপ পড়ে, তা সরকার বোঝে। তবে মূল্য কম রাখতে হলে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। আমদানি করা পণ্যে ভর্তুকি দেওয়ার সঙ্গে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যে ভর্তুকি দেওয়ার পার্থক্য রয়েছে। আমদানি করা জ্বালানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়, যা দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা বাজেটে ছিল। কিন্তু আড়াই মাসের মাথায় জানিয়েছিলাম, ৪৮ হাজার কোটি টাকার অর্ধেক, অর্থাৎ ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে দিতে হয়েছে।’
জ্বালানি বাজারের বৈশ্বিক পরিস্থিতি তুলে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিট এলএনজি কিনতে ৩০ ডলারের বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৪ ডলারে এলএনজি কেনা হয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহসংক্রান্ত সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি বৈশ্বিক সংকট।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি অর্থনীতির দেশে সরকারকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে কোন খাতে কতটা ছাড় দেওয়া সম্ভব। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কোনো না কোনোভাবে জনগণকে বহন করতে হচ্ছে। সরকার চাইলে ভর্তুকি দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। কিন্তু সেই ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
জাহেদ উর রহমানের মতে, সরকার যদি অকল্পনীয় পরিমাণ ভর্তুকি দিতে থাকে, তাহলে ঋণ বাড়াতে হবে। এ ঋণ ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নেওয়া হোক কিংবা নতুন অর্থ সরবরাহের মাধ্যমে নেওয়া হোক, শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে এর ক্ষতিকর প্রভাব জনগণকেই বহন করতে হবে।
আগের সরকারগুলোর সময়ে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সমালোচনা এবং বর্তমান সরকারের সময়ে দাম বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একই সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন করতে হলে তখনকার ও বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে।


























