সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ও সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশের প্রায় ৫০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। বহিরাগতদের উসকানিতে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এলাকার শতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে দেওয়ান পাম্পের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সাধারণ শ্রমিকেরা কাজ করতে চান। তারা কর্মমুখর থাকতে চান। কিন্তু বহিরাগত কিছু লোক এবং একটি কুচক্রী মহল প্রতিদিন সকালে কারখানায় কাজে যোগ দিতে আসা শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তারা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।’
শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে এসপি জানান, শ্রমিকেরা যাতে নিরাপদে কাজ করতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ বল প্রয়োগ করছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সত্য নয়।
শিল্প পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের বিষয়েও পুলিশ সর্বদা তাদের পাশে রয়েছে। সম্প্রতি এক মালিক শ্রমিকদের চার মাসের বেতন না দিয়ে আত্মগোপনে থাকলে তাকে আটক করে আশুলিয়া থানার মাধ্যমে পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। এ জন্য শ্রমিকেরা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কেবল শ্রমিকদের সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু কিছু লোকের ইন্ধনে শ্রমিকদের একটি অংশ কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশ ও অন্য কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। এমন পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিই। আমরা কোনোভাবেই শ্রমিকদের প্রতিপক্ষ নই। সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করব।’
কারখানা বন্ধের বিষয়ে এসপি জানান, তার আওতাধীন প্রায় আট শতাধিক কারখানার মধ্যে শতাধিক কারখানা বন্ধ রয়েছে। তবে নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর ও জিরাবো এলাকার কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া সাভারের অন্যান্য এলাকার অধিকাংশ কারখানায় কাজ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। দুপুরের পর কয়েকজন মালিক কারখানা চালু করতে নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।




















