মানবজাতিকে সঠিক পথের দিশা দিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেসব ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাণী (জাওয়ামিউল কালিম) দান করা হয়েছে, তার অন্যতম হলো—‘যে ব্যক্তি এমন কিছু পাওয়ার ভান করে, যা তাকে দেওয়া হয়নি, সে যেন প্রতারণার দুটি পোশাক পরিধানকারীর মতো’ (সহিহ বোখারি: ৫২১৯)। এই হাদিসে মানবজীবনের বহুবিধ অপরাধ ও আচরণগত বিচ্যুতি সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বর্ণিত হাদিসের আলোকে আলেম সমাজ মনে করেন, অহংকার, বাহ্যিক চাকচিক্যের প্রতি আসক্তি এবং তা নিয়ে গর্ব করার প্রবণতা সামাজিক ও আত্মিক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সমাজজীবনে কৃত্রিম প্রদর্শনপ্রিয়তা ব্যাপক রূপ নিয়েছে। মধ্যম আয়ের অনেক মানুষ সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে দামি পোশাক, গাড়ি কিংবা অভিজাত জীবনযাপনের ভান করছেন—যার পেছনে থাকছে ঋণ, ধার করা কিংবা পরিবারের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ।
ইসলামী শরিয়তে নিজের সামর্থ্য ও সত্যকে গোপন করে অসত্য বা অতিরিক্ত কিছু জাহির করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন, ‘যারা নিজেদের কৃতকর্ম নিয়ে আনন্দিত হয় এবং যা তারা করেনি, তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে—তাদের কখনো শাস্তি থেকে মুক্ত মনে করো না। তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি’ (সুরা আলে ইমরান: ১৮৮)।
হাদিসের ব্যাখ্যায় শায়খুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যা (রহ.) উল্লেখ করেছেন, মিথ্যা দাবি ও লোকদেখানোপনা মানুষের প্রকৃত অবস্থাকে বিকৃত করে উপস্থাপন করে। যারা অসত্য উপায়ে নিজের মর্যাদা বাড়াতে চায়, আল্লাহ তাআলা তাদের অভাব ও ঘাটতি আরও বাড়িয়ে দেন। তাই অহংকার, সামাজিক মাধ্যমে কৃত্রিম প্রদর্শনপ্রিয়তা এবং অন্ধ অনুকরণ ছেড়ে সরল ও সত্যনিষ্ঠ জীবনযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

























