সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা মূলত পাহাড়ঘেরা এক উপত্যকায় গড়ে উঠেছে। এখানকার পাহাড়গুলোর কোনোটি ইসলামের সূচনালগ্নের ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে, আবার কোনোটি মক্কার প্রাচীন ইতিহাস ও নগরজীবনের নীরব সাক্ষী। উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে মসজিদে হারাম ও পবিত্র কাবা শরিফের মোহনীয় দৃশ্য দৃশ্যমান হয়। ফলে ইতিহাসবিদ, পর্যটক ও আলোকচিত্রীদের কাছে এসব পাহাড়ের আবেদন চিরন্তন।
সম্প্রতি আরব নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মক্কার ঐতিহাসিক পাহাড়গুলোর গুরুত্ব ও আধুনিক নগরায়ণের প্রভাবে ঘটা পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সৌদি আলোকচিত্রী আবদুল মুহসিন দুমানের মতে, হজের মৌসুমে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন সংস্থা এসব পাহাড়ের চূড়া থেকেই পবিত্র নগরী ও কাবার চোখজুড়ানো আলোকচিত্র সংগ্রহ করে থাকে।
ভূতাত্ত্বিকভাবে মক্কা অঞ্চলটি প্রাচীন গ্রানাইট শিলা সমৃদ্ধ ‘আরবীয় শিল্ড’-এর অন্তর্ভুক্ত। পাহাড়ের মাঝের উপত্যকাগুলো মক্কার প্রাকৃতিক গঠন ও জনবসতি বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে। গবেষক ও ট্যুর গাইড মাহদি নাফা আল-কুরাশি জানান, এসব পাহাড় কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, বরং মক্কার নগর ইতিহাসের মূল ভিত্তি। প্রাচীনকালে মসজিদে হারামের নির্মাণকাজেও এসব পাহাড়ের পাথর ব্যবহৃত হয়েছিল।
ঐতিহাসিক পাহাড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুপরিচিত ‘জাবালে নূর’। এই পাহাড়ের হেরা গুহায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বে নির্জনে ইবাদত ও ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। এখানেই ফেরেশতা হজরত জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে সুরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাজিল হয়। মক্কার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক গুহাটি দর্শনে প্রতিবছর বহু হাজি ও ওমরাহযাত্রী ছুটে যান।
অন্যদিকে, মক্কার দক্ষিণে অবস্থিত ‘জাবালে সাওর’ ইসলামে ত্যাগের প্রতীক। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় মহানবী (সা.) ও তার পরম সঙ্গী হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এই পাহাড়ের গুহায় তিন রাত অবস্থান করেছিলেন। কুরাইশদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে আশ্রয়ের সেই স্মৃতি পবিত্র কোরআনের সুরা আত-তাওবায় বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া কাবার পূর্ব পাশে অবস্থিত ‘জাবালে আবু কুবাইস’সহ অন্যান্য পাহাড়গুলোও মক্কার প্রাচীন নগর সংস্কৃতির ধারক হিসেবে পরিচিত।


























