পরিবার মানুষের আশ্রয়, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার কেন্দ্র। মা-বাবার সেবা, ভাই-বোনের পাশে দাঁড়ানো এবং আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবর নেওয়া পারিবারিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে একই পরিবারের একাধিক প্রজন্ম একসঙ্গে বসবাস করলে কখনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, পর্দা, স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আমাদের করণীয় কী, তা জানা থাকলে আমাদের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সহজ হবে। যৌথ পরিবার নিয়ে আলোচনায় প্রথমে আসে স্ত্রীর বাসস্থানের কথা। ইসলামে স্ত্রীর উপযুক্ত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা স্বামীর দাম্পত্য দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো।’ -সূরা নিসা: ১৯
ফকিহ ইমাম কাসানি (রহ.) স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও বাসস্থানের বিধান আলোচনা করতে গিয়ে বাসস্থানের ব্যবস্থা করাকে স্বামীর দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। -বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২৩
বিখ্যাত ফকিহ আল্লামা আলাউদ্দিন আল-হাসকাফি (রহ.) উল্লেখ করেছেন, স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীকে এমন বাসস্থানে রাখা, যেখানে স্বামীর পরিবারের সদস্য ও স্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাসের কারণে তার ব্যক্তিগত পরিসর ক্ষুণ্ন না হয়। -আদ দুররুল মুখতার: ১/২৬২
মূল বিষয় হলো স্ত্রীর জন্য এমন বাসস্থানের ব্যবস্থা থাকা, যেখানে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও দাম্পত্য জীবনের অধিকার রক্ষিত হয়। স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসবাসের কারণে যদি এসব অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে স্ত্রীকে সেই পরিস্থিতিতে থাকতে বাধ্য করা সমীচীন নয়।
তবে পৃথক বাসস্থানের অর্থ সব ক্ষেত্রে পৈতৃক বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া নয়। একই বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর জন্য স্বতন্ত্র ও নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা থাকলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী স্ত্রীর বাসস্থানের অধিকার পূরণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঘরের পৃথক প্রবেশ ব্যবস্থা, গোপনীয়তা এবং অন্যদের অননুমোদিত প্রবেশ থেকে সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
বাসস্থানের ধরন নির্ধারণে মানুষের প্রচলিত জীবনযাত্রা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচ্য। ফলে প্রত্যেক অবস্থায় একই ধরনের বাড়ি বা একই বিন্যাসকে বাধ্যতামূলক বলা ঠিক নয়। যৌথ পরিবারে বসবাসের ক্ষেত্রে পর্দার বিধান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ স্বামীর পরিবারের সব সদস্য স্ত্রীর মাহরাম নন, বিশেষত দেবর, ভাশুর ও শ্বশুর ব্যতীত স্বামীর অন্যান্য আত্মীয়ের সঙ্গে চলাফেরায় শরিয়তের পর্দার বিধান মানতে হবে।
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নারীদের কাছে প্রবেশ করা থেকে সাবধান থাকো। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! দেবর সম্পর্কে আপনার মত কী? তিনি বললেন, দেবর তো মৃত্যুসমতুল্য বিপদ।’ -সহিহ বোখারি: ৫২৩২
এ হাদিসে স্বামীর অমাহরাম আত্মীয়দের ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। কারণ ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্কের কারণে অনেক সময় পর্দার ব্যাপারে অসতর্কতা তৈরি হয়। তাই যৌথ পরিবারে বসবাস করলেও পর্দা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং নারী-পুরুষের সীমারেখা রক্ষা করতে হবে।

























