জনগণের রায় অগ্রাহ্য করলে সরকারকে শুধু অপমানিতই হতে হবে না, এর জন্য চরম মূল্যও দিতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের রায় ও ভোটের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলেই কেবল সরকার সম্মানিত হতে পারে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ১১ দলের লংমার্চের অংশ হিসেবে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও সারসংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
সাত দফা আদায়ে ১১ দলের এটি তৃতীয় লংমার্চ উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তাঁরা সরাসরি জনগণের ন্যায্য অধিকার নিয়ে রাজপথে নেমেছেন। তাঁদের মূল দাবি হলো—গণভোটে ৭০ শতাংশ নাগরিক যে রায় দিয়েছেন, তা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই মূল দাবি বাস্তবায়িত হলে বাকি ছয় দফা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কার্যকর হবে। ইনশা আল্লাহ জনগণের এই গণদাবি আদায় করেই তারা ঘরে ফিরবেন।
সংক্ষিপ্ত পথসভা শেষে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে লংমার্চের গাড়িবহর ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে পদ্মা সেতু পেরিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়।
এর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে আয়োজিত অপর এক পথসভায় শফিকুর রহমান সরকারকে পানি ঘোলা না করে জনগণের প্রতি সম্মান জানিয়ে গণরায় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। শনিবার সকাল পৌনে ৯টায় পোস্তগোলা সেতুসংলগ্ন হাসনাবাদ এলাকায় ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামীর এই পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বহরটি হানিফ ফ্লাইওভার ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ধরে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা ও রূপসা সেতু হয়ে যশোর ও কুষ্টিয়ার দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে ১৯টি জেলা অতিক্রমকালে একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
























