মানুষ যখন কথা বলতে চায়, তখন তার উচিত কথা বলার আগে চিন্তা-ভাবনা করা। যদি সে বুঝতে পারে যে তার কথার ফলে কোনো অনিষ্ট সৃষ্টি হবে না এবং কোনো হারাম বা মাকরুহ কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই, তাহলে সে কথা বলতে পারে।
তবে কথাটি যদি শুধু মুবাহ বা বৈধ পর্যায়ের হয়, তাহলে নীরব থাকাই বেশি নিরাপদ। কারণ কোনো বৈধ কথা কখনো কখনো মানুষকে হারাম বা মাকরুহ কথার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
ভালো কথা বলা এবং মন্দ কথা থেকে নীরব থাকা মুমিনদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।’ -সহিহ বোখারি: ৬০১৮
মানুষ কখনো এমন একটি মন্দ কথা বলে ফেলে, যা তার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই বান্দা কখনো আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়- এমন কথা বলে ফেলে, অথচ সে কথাটিকে তেমন গুরুত্বও দেয় না; কিন্তু সেই কথার কারণে সে জাহান্নামে পতিত হয়।’ -সহিহ বোখারি: ৬৪৭৮
অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ হয়- এমন কথা বলে, অথচ সে তাতে কোনো দোষ মনে করে না। ফলে সেই কথার কারণে সে জাহান্নামের আগুনে ৭০ বছর দূরত্ব পর্যন্ত পতিত হয়।’ -জামে তিরমিজি: ২৩১৪
ইসলামের দৃষ্টিতে কথা পাঁচ ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. ওয়াজিব বা অবশ্যকরণীয় কথা। যেমন- আবশ্যকীয় জিকির আদায় করা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাক্ষ্য প্রদান করা, যখন তা অপরিহার্য হয়ে যায়। ২. মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় ও সওয়াবের কাজ। যেমন- সকাল-সন্ধ্যার জিকির পাঠ করা। ৩. হারাম বা নিষিদ্ধ কথা। যেমন- মিথ্যা বলা, গিবত করা, চোগলখুরি করা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। ৪. মাকরুহ বা অপছন্দনীয় কথা। যেমন- এমন কথা বলা, যার পেছনে কোনো উপকারের আশা নেই এবং যা মানুষের নিজের প্রয়োজন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়। ৫. মুবাহ বা বৈধ কথা। যেমন- জীবিকা, দৈনন্দিন কাজকর্ম ও দুনিয়াবি প্রয়োজন সম্পর্কে কথা বলা।
কথা বলার মতো নীরবতাও পাঁচ ভাগে বিভক্ত। যথা- ওয়াজিব, মুস্তাহাব, হারাম, মাকরুহ ও মুবাহ। ১. ওয়াজিব নীরবতা: মিথ্যা, গিবত এবং মানুষের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টিকারী কথা থেকে বিরত থাকা। ২. মুস্তাহাব নীরবতা: এমন অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকা, যা মানুষের নিজের প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত নয়। ৩. হারাম নীরবতা: যখন সাক্ষ্য দেওয়া অপরিহার্য, তখন তা গোপন করা; অথবা যখন অন্যায় প্রতিরোধ করা ব্যক্তির ওপর অপরিহার্য হয়ে যায়, তখন নীরব থাকা। ৪. মাকরুহ নীরবতা: আল্লাহর জিকির ছাড়া মসজিদে বসে থাকা। যদিও শুধু নীরবে মসজিদে বসে থাকাও বৈধ। ৫. মুবাহ নীরবতা: বিশ্রাম নেওয়া বা অবসর সময়ে মানসিক প্রশান্তির জন্য নীরব থাকা।
কাজেই যেখানে কথা বলা আবশ্যক বা পছন্দনীয়, সেখানে কথা বলতে হবে। আর যেখানে নীরব থাকা আবশ্যক বা পছন্দনীয়, সেখানে নীরব থাকাই উত্তম।

























