বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছুঁয়ে গেছে সারা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের খেলা মাঠে বসে উপভোগ করতে আকাশচুম্বী অর্থ খরচ করতে হয়েছে সমর্থকদের। চড়া মূল্যের টিকিটের কারণে সমর্থকদের পকেটে টান পড়লেও বিপুল আর্থিক সাফল্যের মুখ দেখেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টিকিট ও আতিথেয়তা প্যাকেজ বিক্রি থেকে সংস্থাটির আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচশ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬১ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকারও বেশি।
৪৮ দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি ভেন্যুতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১০৪টিতে। ম্যাচের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি টিকিটের মূল্য নির্ধারণে ডায়নামিক প্রাইসিং কৌশল প্রয়োগ করে ফিফা। এর ফলে জনপ্রিয় দলগুলোর ম্যাচ ও নকআউট পর্বের টিকিটের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়।
সবচেয়ে আলোচিত ছিল ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের চড়া দর। সর্বোচ্চ শ্রেণির একটি টিকিটের দাম পৌঁছে যায় প্রায় ১০ হাজার ৯৯০ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় এই দাম বৃদ্ধি প্রায় ৫৮৭ শতাংশ। টিকিটের এই অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেলেও বিক্রি এবং আয়ে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
কাতার বিশ্বকাপের টিকিট ও আতিথেয়তা খাত থেকে ফিফার আয় ছিল প্রায় ৯২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেখান থেকে এবার আয় পাঁচ গুণেরও বেশি বেড়েছে। প্রাথমিক অনুমানে ৩৩০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও তা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ১৭০ কোটি ডলার যোগ হয়েছে ফিফার কোষাগারে। উচ্চবিত্ত ও করপোরেট গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন প্যাকেজ এবং নিজস্ব প্ল্যাটফর্মে টিকিট পুনর্বিক্রির কমিশন এ আয় বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

























