বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন তিনি! পায়ের জাদুতে জয় করেছেন বিশ্ব, ক্যারিয়ারে পূর্ণতা দিয়েছেন প্রায় সব অর্জনেই। বিশ্বকাপ থেকে আটটি ব্যালন ডি’অর-কোনো কিছুই অধরা থাকেনি লিওনেল মেসির। অথচ এমন অনেক মুহূর্ত এসেছে, যখন বিশ্বখ্যাত তারকাদের পাশে বসেও নিজেকে অসহায় মনে হয়েছে তার। ফুটবলের ভাষায় সবাইকে মুগ্ধ করা মেসির সেই অসহায়ত্বের কারণ ইংরেজি না জানা! জীবনের এই ছোট্ট ভুলই এখন বড় আক্ষেপ হয়ে ফিরে আসে আর্জেন্টাইন মহাতারকার মনে।
মেক্সিকান পডকাস্ট ‘মিরো দে আত্রাস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের সেই অনুশোচনার কথা জানিয়েছেন মেসি। ছোটবেলায় ইংরেজি শেখার সুযোগ থাকলেও তা কাজে লাগাননি বলে এখন আফসোস হয় তার।
মেসি বলেন, ‘আমার অনেক কিছু নিয়েই অনুশোচনা আছে। বিশেষ করে ছোটবেলায় ইংরেজি না শেখার বিষয়টা। অন্তত ইংরেজিটা শেখার মতো যথেষ্ট সময় আমার ছিল, কিন্তু আমি তা করিনি। এই জিনিসটার জন্য আমার সত্যিই খুব আফসোস হয়।’
মেসির ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য বিখ্যাত ও প্রভাবশালী মানুষের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু ভাষার সীমাবদ্ধতায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে পারেননি সব সময়। অনুবাদকের সাহায্য নিতে হয়েছে। এমন সুযোগ পেয়েও মনের মতো আড্ডা দিতে না পারার আক্ষেপ তাকে এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়।
সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে মেসি বলেন, ‘এমন কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি আমি যেখানে অনেক বিখ্যাত ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়েছিল। তাদের সঙ্গে খুব চমৎকার আড্ডা দেওয়া যেত, কিন্তু ভাষা না জানার কারণে নিজেকে কেমন যেন অর্ধেক-মূর্খ মনে হতো! আমি সবসময় ভাবতাম-ইশ, আমি কী বোকা! সময়টা কীভাবে নষ্ট করলাম! তরুণ বয়সে এসব মাথাতেই আসে না। আজ আমি আমার সন্তানদেরও এটাই বলি-একটি ভালো শিক্ষা পাওয়া, পড়াশোনা করা আর নিজেকে প্রস্তুত রাখার গুরুত্ব কতখানি।’
নিজের জীবনের সেই অপূর্ণতা সন্তানদের ক্ষেত্রে দেখতে চান না মেসি। তাই পড়াশোনা ও ভাষা শেখার বিষয়ে তাদের নিয়মিত উৎসাহ দেন। তার বিশ্বাস, ছোটবেলায় যে সুযোগগুলো তিনি যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেননি, সন্তানদের উচিত সেগুলোর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা।
‘এলএম টেন’ আরও যোগ করেন, ‘সবসময় আমার সন্তানদের বলি এই সুযোগগুলোর পুরো সুবিধা নিতে। আমার ছোটবেলার পরিস্থিতির চেয়ে ওদের বর্তমান পরিস্থিতি অনেক আলাদা, যদিও সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমার কোনো কিছুরই অভাব ছিল না।’
শিক্ষা নিয়ে মেসির এই উপলব্ধির পেছনে রয়েছে নিজের স্কুলজীবনের অভিজ্ঞতাও। আর্জেন্টিনায় স্কুলের শেষ বছরটা ভালো কাটেনি বলে স্বীকার করেছেন তিনি। কারণ, তখনই জানতেন বার্সেলোনার উদ্দেশে দেশ ছাড়তে হবে। পরে স্পেনে গিয়ে বার্সেলোনার যুব একাডেমি লা মাসিয়ার অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেষ করেন হাইস্কুলের পড়াশোনা।
ফুটবল তাকে দিয়েছে বিশ্বজোড়া পরিচিতি, অসংখ্য অর্জন ও মানুষের ভালোবাসা। কিন্তু মেসির কাছে খেলাটির গুরুত্ব শুধু ট্রফি কিংবা ব্যক্তিগত সাফল্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার মতে, ফুটবল জীবনকে শেখারও বড় একটি মাধ্যম।
এ প্রসঙ্গে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা বলেন, ‘আমি ফুটবল জগতে সব অর্জন করেছি, কিন্তু এর বাইরেও একজন মানুষ হিসেবে শেখার অনেক কিছু বাকি আছে।’
























