মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের ভিড়ে জাতীয় টেস্ট দলের একাদশে নিজের জায়গা পোক্ত করা কখনোই সহজ ছিল না নাঈম হাসানের জন্য। ২০১৭ সালে টেস্ট অভিষেকের পর কেটে গেছে প্রায় নয় বছর। এই দীর্ঘ সময়ে কখনো দলে জায়গা পেয়েছেন, কখনো বাদ পড়েছেন; একাদশে খেলার সুযোগও এসেছে অনিয়মিতভাবে। অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ছুঁয়েছেন ৫০ উইকেটের মাইলফলক। তবে এই অর্জনের দিনে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প—যার পেছনে দুই অভিজ্ঞ সতীর্থের আধিপত্যকেই মূল কারণ বলে মনে করেন নাঈম।
৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে নাঈমকে খেলতে হয়েছে ১৬টি টেস্ট ম্যাচ। বাংলাদেশের দশম বোলার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। তবে বলের হিসাবে দেশের স্পিনারদের মধ্যে দ্রুততম ৫০ উইকেটের মালিক এখন নাঈম; এ জন্য তার লেগেছে ২ হাজার ৮৫৬ বল। এতদিন রেকর্ডটি ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের, যিনি ১৩ টেস্টে ৩ হাজার ৫১২ বল করে ৫০ উইকেট পেয়েছিলেন।
এই মাইলফলক অর্জন নাঈমের জন্য একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে নিয়মিত সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপও রয়েছে। তার মতে, অধিনায়কদের আস্থার জায়গায় সবসময় এগিয়ে ছিলেন মিরাজ ও তাইজুল। ফলে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ কম পেয়েছেন তিনি।
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাঈম বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, আমি অনেক দিন পর ম্যাচ খেলছি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খেলার পর অনেক দিন পর নামলাম। এক্ষেত্রে দেখা যায়, অধিনায়ক দলের জন্য যেটা ভালো মনে করেন, সেটাই করেন। মিরাজ ভাই আর তাইজুল ভাইয়ের ওপর বিশ্বাসটা বেশি থাকে, তাই আমি সুযোগ কম পেয়েছি।’
তবে অতীতের হিসাব নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন এই অফ স্পিনার। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে পারফরম্যান্স দিয়ে অধিনায়কের আস্থা অর্জন করতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস। নাঈম বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ সামনে যদি আমি এমন পারফর্ম করতে পারি, তাহলে আমার ওপরও বিশ্বাস তৈরি হবে এবং আমাকে দিয়েও বেশি বোলিং করাবে।’
সুযোগ কম পাওয়া নিয়ে খানিকটা মনখারাপ থাকলেও নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা বিষয় নিয়ে অজুহাত দিতে চান না তিনি। যখনই সুযোগ পাবেন, সেরাটা দেওয়াই তার লক্ষ্য। নাঈমের ভাষ্য, ‘আসলে ওটা তো আমার হাতে নেই। আমাকে যখনই সুযোগ দেওয়া হয়, আমি চেষ্টা করি ১০০ ভাগ দিতে এবং দলের জন্য যেটা ভালো হয় সেটাই করতে।’
চলতি টেস্টে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কাছ থেকে পর্যাপ্ত ওভার বোলিংয়ের আশ্বাস পেয়েছিলেন নাঈম। তৃতীয় দিনের শুরু থেকেই তাকে লম্বা স্পেল করানোর পরিকল্পনা ছিল দলনেতার। শুরুতে এক-দুই ওভার ইতিউতি হলেও নির্দিষ্ট জায়গায় টানা বল করে যাওয়ার নির্দেশ দেন শান্ত। এমনকি খারাপ করলেও সারাদিন বোলিং করানোর সেই আশ্বাস নাঈমকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগায়।
অধিনায়কের আস্থার কথা স্মরণ করে নাঈম জানান, শান্ত ভাই তাকে স্পষ্ট করে বলেছিলেন—‘এক জায়গায় বোলিং কর, তুই সারাদিন বোলিং করবি। খারাপ করলেও তুই সারাদিন বোলিং করবি।’ অধিনায়কের এই বার্তাই তাকে মানসিকভাবে শক্ত রেখেছে বলে জানান তিনি।
























