সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববির ছাদের ওপর নজর কাড়লে প্রথমেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে সারি সারি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ। তবে এই গম্বুজগুলোর বিশেষত্ব কেবল তাদের নান্দনিক কারুকাজেই সীমাবদ্ধ নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য বিস্ময়।
মসজিদে নববিতে এমন ২৭টি বিশেষ গম্বুজ রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে খোলা ও বন্ধ করা যায়। সুবিশাল এই গম্বুজগুলোর প্রতিটির ওজন প্রায় ৮০ টন এবং এগুলো ১৮ বাই ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের ও ৬.৩ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এত বিশাল আকৃতির গম্বুজগুলো সম্পূর্ণ খুলতে সময় লাগে মাত্র ৭২ সেকেন্ড।
ইস্পাতের মজবুত কাঠামোর ওপর নির্মিত এই গম্বুজগুলো বিশেষ চার চাকার ক্যারেজের সাহায্যে নির্ধারিত রেলপথে চলাচল করে। এদের এই সচল প্রক্রিয়াটি মূলত ফ্রিকোয়েন্সি-নিয়ন্ত্রিত বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে পরিচালিত হয়। ফলে অতি জটিল ও সুপরিকল্পিত এক প্রকৌশল ব্যবস্থার মাধ্যমেই গম্বুজগুলোর পরিচালনা নিশ্চিত করা হয়েছে।
মসজিদের ভেতরের আবহাওয়া ও বাইরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সামঞ্জস্য বজায় রেখে এগুলো খোলা বা বন্ধ করা হলেও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারকের ওপর অবস্থিত বিখ্যাত সবুজ গম্বুজটি সম্পূর্ণ স্থায়ী। সেটি কখনোই খোলা হয় না।
প্রতিটি গম্বুজের নিচে রয়েছে ৩২৪ বর্গমিটার এলাকা, যা মুসল্লিদের ছায়া প্রদান করে। ভেতরের পরিবেশ স্বাভাবিক ও আরামদায়ক রাখার পাশাপাশি মসজিদের ভেতরে শব্দের প্রতিধ্বনি নিয়ন্ত্রণ এবং সাউন্ড সিস্টেম যথাযথভাবে পৌঁছাতেও ভূমিকা রাখে এই আধুনিক গম্বুজগুলো।
বাইরের অংশে সিরামিক টাইলস ও বিশেষ ফাইবার উপাদান এবং ভেতরের অংশে কাঠ ও ইপোক্সি ল্যামিনেটের সূক্ষ্ম কারুকাজে তৈরি এই গম্বুজগুলো শুধু নান্দনিকতাই বৃদ্ধি করেনি, বরং মুসল্লিদের ইবাদতের পরিবেশকে আরও সুবিধাজনক ও সুন্দর করে তুলেছে।


























