ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: অস্তিত্ব সংকটে উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা

২০১৭ সালে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিল কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ। নিজেদের অভাব-অনটন ছাপিয়ে সেদিন তারা মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর পর আজ সেই ত্যাগ আর মানবিকতার বিনিময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইকোসিস্টেম এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পাহাড় কেটে এবং মাইলের পর মাইল বনাঞ্চল উজাড় করে গড়ে তোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর কারণে উখিয়া-টেকনাফ আজ শ্রীহীন। একসময়ের সবুজ বনভূমি এখন প্লাস্টিক ও পলিথিনের বর্জ্যে ঢাকা পড়েছে। বিশেষ করে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠায় প্রায় ২০০ একর উর্বর কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ক্যাম্প থেকে আসা রাসায়নিক বর্জ্য ও নোংরা পানি কৃষিজমি এবং জলাশয়গুলোকে বিষিয়ে তুলছে। একসময় যে জমিতে প্রচুর ফসল ফলত, এখন সেখানে কেবল দুর্গন্ধ আর আবর্জনার স্তূপ। নদী ও খালগুলো তাদের স্বাভাবিক নব্যতা হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের পুরো বোঝা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়াকে চরম অমানবিক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি চূড়ান্ত করতে সুইজারল্যান্ডে জেডি ভ্যান্স

রোহিঙ্গা সংকটের ৯ বছর: অস্তিত্ব সংকটে উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা

আপডেট সময় : ১১:২০:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

২০১৭ সালে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের জাতিগত নিধনযজ্ঞ থেকে বাঁচতে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিল কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের মানুষ। নিজেদের অভাব-অনটন ছাপিয়ে সেদিন তারা মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর পর আজ সেই ত্যাগ আর মানবিকতার বিনিময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ইকোসিস্টেম এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পাহাড় কেটে এবং মাইলের পর মাইল বনাঞ্চল উজাড় করে গড়ে তোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর কারণে উখিয়া-টেকনাফ আজ শ্রীহীন। একসময়ের সবুজ বনভূমি এখন প্লাস্টিক ও পলিথিনের বর্জ্যে ঢাকা পড়েছে। বিশেষ করে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির গড়ে ওঠায় প্রায় ২০০ একর উর্বর কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ক্যাম্প থেকে আসা রাসায়নিক বর্জ্য ও নোংরা পানি কৃষিজমি এবং জলাশয়গুলোকে বিষিয়ে তুলছে। একসময় যে জমিতে প্রচুর ফসল ফলত, এখন সেখানে কেবল দুর্গন্ধ আর আবর্জনার স্তূপ। নদী ও খালগুলো তাদের স্বাভাবিক নব্যতা হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সংকটের পুরো বোঝা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর চাপিয়ে দেওয়াকে চরম অমানবিক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।