কিয়ামতের নিকটবর্তিতা প্রমাণস্বরূপ যে আলামতগুলো প্রকাশ পাবে, সেগুলোকে ইসলামের পরিভাষায় ছোট আলামত (আশরাতুস সাআ আস-সুগরা) ও বড় আলামত (আশরাতুস সাআ আল-কুবরা) এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়। ছোট আলামতগুলো সাধারণত কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার অনেক আগেই প্রকাশিত হয় এবং এর কিছু ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, কিছু চলমান আছে এবং কিছু ভবিষ্যতে প্রকাশ পাবে। পক্ষান্তরে, বড় আলামতগুলোর প্রকাশ কিয়ামত অতি সন্নিকটে হওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
কিয়ামতের ছোট আলামতসমূহ
কিয়ামতের ছোট আলামতের সংখ্যা অনেক এবং সহিহ হাদিস দ্বারা সমর্থিত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আলামত হলো:
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত লাভ ও তাঁর মৃত্যু।
- বায়তুল মোকাদ্দাস বিজয় ও ফিলিস্তিনের “আমওয়াস” নামক স্থানে প্লেগ রোগ দেখা দেওয়া।
- প্রচুর ধন-সম্পদ হওয়া এবং যাকাত খাওয়ার লোক না থাকা।
- নানারকম গোলযোগ (ফিতনা) সৃষ্টি হওয়া (যেমন উসমান (রা.) এর হত্যাকাণ্ড, জঙ্গে জামাল, সিফফিন ইত্যাদি)।
- নবুয়তের মিথ্যা দাবিদারদের আত্মপ্রকাশ (যেমন মুসাইলামাতুল কাযযাব)।
- হেজাযে আগুন বের হওয়া (যা ৬৫৪ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে)।
- আমানতদারিতা না থাকা বা অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া।
- ইলম উঠিয়ে নেওয়া (আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে) ও অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করা।
- ব্যভিচার, সুদ, বাদ্যযন্ত্র ও মদ্যপান বেড়ে যাওয়া।
- বকরির রাখালেরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ করা।
- কৃতদাসী কর্তৃক স্বীয় মনিবকে প্রসব করা (যা সন্তানের অবাধ্যতা অর্থে ব্যাখ্যা করা হয়েছে)।
- মানুষ হত্যা বেড়ে যাওয়া ও অধিকহারে ভূমিকম্প হওয়া।
- মানুষের আকৃতি রূপান্তর, ভূমি ধ্বস ও আকাশ থেকে পাথর পড়া।
- কাপড় পরিহিতা সত্ত্বেও উলঙ্গ এমন নারীদের বহিঃপ্রকাশ।
- মুমিনের স্বপ্ন সত্য হওয়া, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বেড়ে যাওয়া এবং নারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া।
- আরব ভূখণ্ড আগের মত তৃণভূমি ও নদনদীতে ভরে যাওয়া।
- ফোরাত (ইউফ্রেটিস) নদীর উৎস থেকে একটি স্বর্ণের পাহাড় আবিষ্কৃত হওয়া।
- হিংস্র জীবজন্তু ও জড় পদার্থ মানুষের সাথে কথা বলা।
- রোমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং মুসলমানদের সাথে তাদের যুদ্ধ হওয়া।
- কনস্টান্টিনোপল বিজয় হওয়া।
কিয়ামতের বড় বড় আলামতসমূহ (১০টি)
কিয়ামতের বড় আলামতগুলো অনেক বড় ঘটনা, যা একটার পর একটা প্রকাশিত হতে থাকবে এবং এর প্রথমটি প্রকাশিত হওয়ার পর পরেরগুলো দ্রুত প্রকাশিত হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুযাইফা বিন আসিদ (রা.) এর হাদিসে এই দশটি আলামতের কথা উল্লেখ করেছেন:
১. দাজ্জাল
২. ঈসা বিন মরিয়ম (আঃ) এর নাযিল হওয়া
৩. ইয়াজুজ ও মাজুজ
৪. পূর্বে ভূমিধ্বস হওয়া
৫. পশ্চিমে ভূমিধ্বস হওয়া
৬. আরব উপদ্বীপে ভূমিধ্বস হওয়া
৭. ধোঁয়া (দুখাম)
৮. সূর্যাস্তের স্থান হতে সূর্যোদয়
৯. বিশেষ জন্তু (দাব্বাতুল আরদ)
১০. এমন আগুনের বহিঃপ্রকাশ যা মানুষকে হাশরের মাঠের দিকে নিয়ে যাবে
এই আলামতগুলোর সঠিক ধারাবাহিকতা সম্পর্কে সহিহ দলীল পাওয়া না গেলেও, আলেমগণ কিছু আলামতের ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করেছেন। যেমন শাইখ উছাইমীন (রহ.)-এর মতে, প্রথমে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ, এরপর ঈসা বিন মরিয়ম (আ.) এর অবতরণ ও দাজ্জালকে হত্যা এবং এরপর ইয়াজুজ-মাজুজের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। তবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো এই আলামতগুলোর প্রকাশ কিয়ামতের অতি সন্নিকটবর্তী হওয়াকে প্রমাণ করবে। আল্লাহই ভালো জানেন।
রিপোর্টারের নাম 
























